লাইব্রেরির খাতা আর আকাশের হিসাব
বন্ধ হয়ে গেছে লাইব্রেরি। আমি ফিরতি বই তিনটা ট্রলিতে তুলছি, মূল তাক, বেসমেন্টের আর্কাইভ, আর দরজার পাশে বই বদলের টেবিল। গুনে দেখি কয়েকটা বই কম। হারায়নি মনে হয়, শুধু এখনো ধরা পড়েনি।
ওই খাতাটাই আমার মাথায় আকাশের হিসাব হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ে, লাইব্রেরিতে বই ঢোকার মতো। তারপর সেটা ভাগ হয়, কিছু বাতাসেই থাকে, কিছু সাগর টেনে নেয়, কিছু গাছপালা আর মাটি ধরে রাখে।
সমস্যা হলো, এই লাইব্রেরি বিশাল, আর হিসাবটা অনেক বছর টেনে আসে। কোথাও জ্বালানি আর কারখানার নথি, কোথাও জমির ব্যবহার, কোথাও বাতাসে মাপা মান। বেশির ভাগ দিন মোটামুটি মেলে, কিন্তু এক কোণে ছোট্ট ফাঁক থেকে যায়, বছর ধরে ধরলে সেটা বেশি চোখে পড়ে।
একবার খাতায় তিনটা বদল এলো। নতুন বছর পর্যন্ত এন্ট্রি উঠল, আর মহামারির সময় হঠাৎ চলাচল কমার একটা তাড়াহুড়ো হিসাবও যোগ হলো। জমির ক্ষেত্রে শুধু শেষের মোট নয়, আলাদা করে লেখা হলো কতটা হারাল আর কতটা ফিরে এল, যেন তাক থেকে নামানো আর পরে ফেরত তোলা দুটোই।
আর সিমেন্টের হিসাবেও ছোট্ট সংশোধন। পুরোনো সিমেন্ট সময়ের সাথে একটু করে কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নেয়, তাই জ্বালানি আর কারখানার মোটটা সামান্য কম ধরা হয়। আমার লাইব্রেরিতে এটা যেন কিছু বইয়ের মলাট ধীরে ধীরে ধুলো টেনে নিয়ে মেঝেতে কম ছড়ায়, চোখে না পড়লেও কাজটা হয়।
তবু কিছু তাক নিয়ে তর্ক থামে না। উত্তরের বড় এলাকায় গাছ আর মাটি কতটা টানছে, সেটা একেকভাবে গুনলে একেক রকম আসে। সাগরের কিছু অংশেও একই ঝামেলা। তাই খাতায় আমার সেই লাইনটা থেকে যায়, কয়েকটা বই কম, মানে কোথাও গুনতে ভুল হচ্ছে বা কিছু পথ চোখ এড়াচ্ছে।
মহামারির সময় ডেলিভারি কমে গেল, কিন্তু খাতায় দেখা গেল বাতাসের দিকটা তবু বাড়ছে। আমি ট্রলিটা থামিয়ে তাকগুলোর দিকে তাকাই, একদিনের কমা মানে লাইব্রেরি হালকা হয়ে গেল না। খাতাটা ঠিক রাখতে হলে কোন তাকগুলো ঝাপসা, সেটা পরিষ্কার করে লিখে যেতে হয়।