বাড়ির মিটিংয়ে খাতাটা এক হাতে রাখলে কেন শান্তি থাকে
ভাড়া বাড়ানোর কথা উঠতেই সবাই একসাথে কথা বলতে লাগল। তাই বাড়ির মিটিংয়ে ঠিক হলো, এক জনের হাতে বড় খাতা থাকবে, সে সিদ্ধান্তগুলো এক লাইনে লিখবে। এই খাতা অনেক কম্পিউটারের একটাই কাজের তালিকার মতো, একই ক্রম ধরে রাখাই আসল।
হঠাৎ জেনারেটরের শব্দে খাতাধারীর কথা চাপা পড়ে গেল। দুজন ভাবল খাতা বুঝি ফাঁকা পড়েছে, তারা আলাদা করে সিদ্ধান্ত লিখতে শুরু করল। কারও পাতায় এক কথা, কারও পাতায় আরেক কথা, তালিকা দুদিকে ভাগ হয়ে গেল।
তখন নতুন নিয়ম এলো, খাতাধারীর কাছ থেকে কিছুক্ষণ খবর না পেলে সবাই একসাথে খাতা ধরতে দৌড়াবে না। যে যার মতো একটু করে আলাদা সময় থামবে, তারপর খাতা চাইবে। এই ছড়ানো অপেক্ষায় একসাথে দুই জনের হাতে খাতা চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
যে খাতা পেল, সে শুধু নতুন কথা লিখল না। সে শেষ যে সিদ্ধান্তে সবাই মাথা নেড়েছিল, সেটার লাইন দেখিয়ে একেকজনকে জিজ্ঞেস করল, তাদের নোটে ঠিক ওই লাইন আছে কি না। মিল না হলে, মিলের পরের অংশ কেটে দিয়ে খাতা দেখে আবার লিখে নিল।
আরেকটা কড়া শর্ত ছিল, পুরোনো নোট নিয়ে কেউ জোরে কথা বললেই খাতা পাবে না। খাতা চাইলে সবাই আগে দেখে, তার পাতায় অন্তত অন্যদের মতোই পর্যন্ত লেখা আছে কি না। না থাকলে ভোটই পড়ে না, যাতে আগের মেনে নেওয়া কথা হারিয়ে না যায়।
মাঝপথে নতুন ভাড়াটে যোগ হবে, কারও কাজের চাপে বেরোতেও হবে। খাতায় বদলটা দুই ধাপে চলল, কিছুদিন পুরোনো দল আর নতুন দল দুপক্ষের সম্মতি না হলে কিছুই চূড়ান্ত নয়। নতুনরা আগে নীরবে বসে খাতা কপি করল, পরে গিয়ে মত দেওয়ার পালা পেল।
শেষদিকে খাতা পাতায় পাতায় ভরে গেল, খাতাধারী একটা পরিষ্কার সারাংশ পাতায় বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো তুলে রাখল। কেউ পিছিয়ে পড়লে পুরোনো সব পড়ে শোনাতে হলো না, ওই সারাংশ দেখে সে ঠিক পথে এল। তখন চোখে পড়ল, সবাই একসাথে লিখতে গেলে ঝগড়া বাড়ে, এক হাতে খাতা থাকলে আর মিলিয়ে নেওয়ার নিয়ম থাকলে কথা এক লাইনে থাকে।