আধা অন্ধকার বিমানবন্দরে এক নতুন সহকারীর বড় পরীক্ষা
ভোরের আধা অন্ধকারে সুপারভাইজার তথ্যকেন্দ্রের দিকে হাঁটেন। আজ নতুন এক ডিজিটাল সহকারী চালু হবে। গত সপ্তাহে ছোট্ট নকল টার্মিনালে মহড়া হয়েছে, কয়েকটা নকল গেট, কিছু স্বেচ্ছা যাত্রী, গাদা গাদা এলোমেলো প্রশ্ন।
ভয়টা একেকটা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নয়। ভয়টা হলো আসল ভিড়ে সব একসাথে চাপলে কী হবে। আগে এমনও হয়েছে, কোণায় ঠিকঠাক চলা ব্যবস্থা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়তেই অদ্ভুত আচরণ করেছে, শেষ মুহূর্তে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে।
তাই দলটা মহড়ার মতো ছোট সেটআপ বারবার চালায়। ছোট সহকারীকে আরও ছোট করে দেখে, তারপর একটু একটু করে ক্ষমতা বাড়ায়। কতবার হোঁচট খায়, সেটা গুনে রেখেই তারা আন্দাজ করে বড় হলে কেমন চলবে। মানে, নকল টার্মিনালের ধারা দেখেই আসল টার্মিনালের ঝুঁকি মাপা।
দরজা খুলে ভিড় জমতেই দেখা যায় সহকারীটা এক কাজেই আটকে নেই। কেউ লেখা কপি করে দেয়, কেউ সাইনবোর্ড বা ফর্মের ছবি জুড়ে দেয়, সহকারী বলে দেয় কী বুঝেছে আর পরের পদক্ষেপ কী হতে পারে। নানা লিখিত পরীক্ষার মতো কাজেও পুরনো সহকারীদের চেয়ে বেশ ভালো করে, যদিও সব কাজে সমান নয়।
সুপারভাইজার সবচেয়ে খেয়াল করেন আরেকটা ব্যাপার। সহকারীটা কখনও ভুল হলেও খুব আত্মবিশ্বাসী শোনায়, এমনকি তথ্য বানিয়েও ফেলতে পারে। আর নতুন নিয়ম বদলালে সেটা নাও জানতে পারে, যেন পুরনো ছাপার গাইডবুক। তাই বাইরে থেকে লোক ডেকে ভুল পথে টানার চেষ্টা করানো হয়, আর ওপর থেকে বাড়তি পাহারা বসে, যাতে ঝুঁকির অনুরোধে না বলে, কিন্তু নিরীহ প্রশ্নে অকারণে না থামে। ফাঁক খোঁজা মানুষ তবু কখনও পথ বের করে।
রাতে নোটবুক বন্ধ করতে করতে সুপারভাইজার বুঝতে পারেন, বদলটা একদম নিখুঁত উত্তর নয়। বদলটা হলো, বড় করে চালু করার আগেই ছোট মহড়া থেকে আচরণটা আন্দাজ করা যায়, আর ভালো-মন্দটা একইভাবে মাপা যায়। এতে সহকারীরা ধীরে ধীরে বেশি কাজে লাগলেও, বড় ঝুঁকির সময়ে মানুষকে চোখ খোলা রাখতেই হয়।