একটা দড়ি, একটু ঢেউখেলানো জমি, আর লুকোনো খরচের হিসাব
ঘাস ছোট, বাতাস শুকনো। বনরক্ষী মাটিতে হাঁটু গেড়ে এক লম্বা দড়ি খুলল, অস্থায়ী আশ্রয়ঘেরা করতে। সমতল জমি হলে কতটা দড়ি লাগবে জানা, কিন্তু এই জমি চোখে না পড়া ঢেউয়ে ভরা, দড়ি কি বেশি খরচ হবে?
এই দড়ির প্রশ্নটাই জায়গা নিয়ে ভাবা লোকজনের পুরোনো ধাঁধা। ভেতরে যতটা জায়গা রাখতে চাই, বাইরে সীমানা কত কম রাখা যায়। আগে ধরে নেওয়া হতো, জমির প্রতিটা বিন্দু ঠিকঠাক, কোথাও খারাপ গর্ত নেই। বাস্তবে সেটা মেলে না।
নতুন ভাবনা হলো, খারাপটা একেক জায়গায় পাশ ফেল না করে মোট বিলের মতো যোগ করা। তারা একটা বেছে নেওয়া আদর্শ জগত ধরল, কোথাও মাটির বাঁক এক রকম, সেটা সমতলও হতে পারে, আবার অন্যভাবে বাঁকাও হতে পারে। তারপর দেখল, আসল জমি সেই মান থেকে মোট কতটা কম পড়ছে।
বনরক্ষীর ভাষায়, শর্তটা আর “একটাও গর্ত চলবে না” নয়। শর্তটা “সব গর্ত মিলিয়ে মোট খারাপ কত”। ওই মোটটা ছোট হলে, সমান জমি ঘিরতে দড়ির দৈর্ঘ্য আদর্শ জগতের তুলনায় সর্বোচ্চ কতটা বেশি হতে পারে, তার একটা পরিষ্কার সীমা পাওয়া যায়।
সে একটা খুঁটি পুঁতে দড়ির গোল ধীরে ধীরে বড় করে। ভেতরের জমি বাড়ে, দড়িও বাড়ে। জমি যদি ভেতরটা চেপে ধরে, দড়ি দ্রুত ফুলতে পারে, কিন্তু কতটা পর্যন্ত ফুলতে পারে, সেটাও ওই “মোট বিল” আর বেছে নেওয়া আদর্শ বাঁকের ওপর আটকে থাকে।
আরেকটা ঝামেলা ছিল, একই জমি ঘিরলেও আদর্শ জগতে যে দূরত্ব হবে, এই জমিতে তা নাও মিলতে পারে। তারা দেখাল, ওই মোট বিল নিয়ন্ত্রণে থাকলে, এই দূরত্বের হেরফেরও বেছে নেওয়া আদর্শ বাঁকের নিয়ম মেনে সীমার মধ্যে থাকে।
একবার সে এমন জায়গায় কাজ করল যেখানে চারপাশে মসৃণভাবে বাইরে দিকে ফুলে থাকা একটা সীমানা আছে, ভেতরে ঢোকা খাঁজ নেই। দড়ির গোলটা ভেতরে থাকবে, আর সীমানায় ঠেকলে দড়ির ওই দিকটা আর বাড়বে না। খরচের হিসাব তাই দড়ির অংশেই থাকে, আর তুলনাটাও হয় “একটা সোজা প্রান্তের পাশে” আদর্শ জগতের সেরা ঘেরের সাথে।
শেষে বনরক্ষী খাতায় দুইটা লাইন টানে। পুরোনো নিয়মে হয় সব ঠিক, না হয় কোনো কথা নেই। নতুন নিয়মে জমির ছোট ছোট খুঁতগুলো এক জায়গায় জমা হয়ে একটা হিসাব দেয়, আর সেই হিসাব বলেই দেয় দড়ি আদর্শ জগতের থেকে কতটা পর্যন্ত বেশি যেতে পারে, বেশি যাওয়াটা বাধ্যতামূলক নয়।