স্ক্যানার কী দেখল, আর তুমি কাকে বিশ্বাস করবে?
এয়ারপোর্টের ট্রেনিং রুমে আমি পাসপোর্টটা স্ক্যানারের নিচে ঠেলে দিলাম। প্রশিক্ষক ফিসফিস করে বলল, “এটা আসল।” স্ক্যানার কী বলেছে সেটা লুকোনো, শুধু একটা ইঙ্গিত দেখাল, কোথায় নজর পড়েছে বা কতটা নিশ্চিত ছিল। তখনই আমাকে বলতে হলো, স্ক্যানার ঠিক বলেছে কি না।
অনেকে ইঙ্গিত দেখে মনে মনে বলে, “ভালোই তো লাগছে, মানে ঠিকই হবে।” কিন্তু আরাম লাগা মানেই ঠিক সিদ্ধান্ত না। ইঙ্গিতটা খুব বিশ্বাসযোগ্য দেখিয়েও ভুল সময়ে আমাকে স্ক্যানারের ওপর ভরসা করিয়ে দিতে পারে।
তাই খেলাটা বদলানো হলো। প্রতি রাউন্ডে আমি তিনটা জিনিস পেলাম: পাসপোর্টের ছবি, প্রশিক্ষকের ঠিক উত্তর, আর স্ক্যানারের লুকোনো আন্দাজের সাথে জোড়া একটা ইঙ্গিত। তারপর একটাই প্রশ্ন, “তুমি কি মনে করো স্ক্যানার ঠিক বলেছে?” আমার উত্তর ঠিক না ভুল, সেটা মিলিয়ে দেখা গেল।
এভাবে বোঝা গেল আমার ভেতরে আসলে দুই রকম দক্ষতা লাগে। স্ক্যানার ঠিক থাকলে কখন ভরসা করব, আর স্ক্যানার ভুল করলে কখন সন্দেহ করব। একই ইঙ্গিত দুটো কাজেই সাহায্য করবে, এমন ধরে নেওয়াটা ঠিক নয়, তাই তারা নানা ধরনের ইঙ্গিত একভাবে সাজিয়ে তুলনা করল।
অনলাইনে একদল মানুষকে নিয়ে তারা ছয় রকম ইঙ্গিত দেখাল। বেশিরভাগ ইঙ্গিত ছিল ছবির ওপর রঙিন ছাপ, যেন গরম দাগের মতো। আর একটা ছিল সোজা তালিকা, কোন ফলাফলের দিকে স্ক্যানার কতটা ঝুঁকছে, মানে তুলনামূলক ভরসার ক্রম।
মজার কথা, ওই তালিকাটা অনেক সময় আমাকে ঠিকভাবে ধরতে সাহায্য করল স্ক্যানার ঠিক কি না। কিছু রঙিন ছাপ স্ক্যানার ঠিক থাকলে ভরসা বাড়াল, কিন্তু একই সাথে ভুল ধরার চোখটা ভোঁতা করল। আবার একটা ছাপ ভুল ধরা বাড়াল, কিন্তু ঠিক সময়ে ভরসা কমিয়ে দিল।
শেষে প্রশিক্ষক একটা অস্বস্তিকর উদাহরণ দিল। স্ক্যানার আসল পাসপোর্ট পাশ করাল, কিন্তু কারণটা খারাপ, একটা স্ট্যাম্প দেখে যা নকলও হতে পারে। তখন “সৎ” ইঙ্গিত দেখলে আমার সন্দেহ জাগতেই পারে, যদিও উত্তরটা মিলে গেছে। ব্যাপারটা হলো, ইঙ্গিত ভালো তখনই, যখন সেটা আমাকে ঠিক সময়ে ভরসা আর ঠিক সময়ে সন্দেহ করতে শেখায়।