গুদামটা কানে তালা লাগিয়ে দেয় এমন শব্দে ভরা। ম্যানেজার দেয়ালের টিমটিমে বোর্ড দেখে, তিপ্পান্ন ড্রাইভার তৈরি। প্রতিটা চেকপয়েন্টে বাম না ডান, এইভাবে এত কম্বিনেশন হয় যে সব লিখে শেষ করা যায় না, তবু দ্রুত অনেক রুট স্লিপ চাই।
আগে ম্যানেজার কেরানিদের দিয়ে আন্দাজ করাতেন কোন রুটগুলো বেশি আসার কথা, তারপর ড্রাইভারদের স্লিপের সাথে মিলিয়ে দেখতেন। ড্রাইভার আর চেকপয়েন্ট কম হলে চলে। কিন্তু এত বড় হলে বোর্ডের সম্ভাবনা গুনতে গুনতে কেরানিদের খাতা শেষ, সময় শেষ।
নতুন চালটা রুট বদলানো নয়, গুদাম চালানোর কায়দা বদলানো। মেঝেতে বড় একটা গ্রিড বানানো হলো, পাশের লেনের মাঝে ছোট দরজা। দরজা একটু খুলে দ্রুত হাতবদল, তারপর আবার বন্ধ, যাতে বাকিরা ধাক্কাধাক্কি না করে একইসাথে চলতে পারে।
দ্রুত হলেই তো ঠিক হল না। দলটা একটা সহজ স্কোর রাখল, যাতে বোঝা যায় স্লিপের গাদা নিয়মবইয়ের মতো লাগছে কি না। কয়েকটা স্লিপ তুলে দেখা হলো, ঠিক এই রুটগুলো কি কেরানিরা ছোট গুদামে হিসেব করে যে রকম আশা করে, নাকি একেবারে এলোমেলো।
বোর্ড যখন এত বড় যে কেরানিরা আর ধরতে পারে না, দলটা নিয়মটা একটু বদলে স্কোরবোর্ডটা বাঁচিয়ে রাখল। কিছু দরজা বন্ধ করে গুদামকে দুই ভাগে ভাঙল, দুই ভাগ আলাদা করে কেরানিরা ধরতে পারে। আবার মাঝে মাঝে অল্প কিছু দরজা খোলা রেখে কোনোমতে হিসেবযোগ্য একটা ভার্সনও চালাল।
সবচেয়ে কঠিন শিফটে তিপ্পান্ন ড্রাইভার অনেকগুলো চেকপয়েন্ট পেরিয়ে মিনিটের মধ্যে স্লিপের পাহাড় বানাল। কেরানিরা অলস বলে নয়, কাজটাই ফুলে ওঠে। প্রতিটা চেকপয়েন্টে সম্ভাবনা লাফিয়ে বাড়ে, আর লেনের হাতবদলগুলো হিসেবকে জট পাকিয়ে দেয়।
শিফট শেষে ম্যানেজার দেখল ভুলগুলো অদ্ভুত কোনো এক দানব নয়, ছোট ছোট পাশের লেনের ভুল জমে এমন এক ছবি বানায় যা আগে থেকে আন্দাজ করা যায়। গ্রিডে একসাথে চলা, দরজা অন-অফ করে দ্রুত হাতবদল, আর স্কোর দিয়ে মিলিয়ে দেখা, সব মিলেই নতুন জিনিসটা দাঁড়াল। আজই কারও দৈনন্দিন জীবন পাল্টায় না, কিন্তু বড় ব্যবস্থা যে বাড়লেই ভেঙে পড়ে না, সেটা চোখে পড়ল।