লিফটটা হঠাৎ লাফালাফি করছিল, দোষ ছিল ছোট এক চোখে
ফ্ল্যাটের লিফটের দরজা খুলতেই সবাই একসাথে ঢুকল। আলোটা কখনো থামে, কখনো ঝাঁপ দেয়। একজন বলল, “আজ লিফটটা কেমন লাফাচ্ছে।” ম্যানেজার বলল, মোটর না, সমস্যা ওজন ধরার সেন্সরে।
সেন্সরটা ঠিকঠাক বুঝতে না পারলে লিফট বারবার বেশি টানে, আবার কম টানে। নেটওয়ার্কের ভেতরে একটা স্তরও এমনই, আগের স্তর বদলালেই পরের স্তরের কাছে আসা সংকেতের স্বাভাবিক মাপ পাল্টে যায়, আর সে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
ম্যানেজার ছোট একটা অংশ লাগাল, যেন প্রতিবার যাত্রার শুরুতে সেন্সরটা নিজেকে গুছিয়ে নেয়। ভেতরের লোকজনের ভার দেখে সে মাঝামাঝি একটা ধরল, তারপর ছড়ানোটা দেখে মান ঠিক করল, যাতে পড়াটা একই রকম পরিসরে থাকে। পরের অংশটা আর চলন্ত লক্ষ্য ধরতে দৌড়ায় না।
কিন্তু সবকিছু এক মাপে আটকে দিলে চলবে না। তাই ওই অংশে দুটো নিয়ন্ত্রণও থাকল, একটায় পড়া টানটান করা যায়, আরেকটায় একটু এদিক ওদিক সরানো যায়। লিফট চাইলে ভিড়কেও স্বাভাবিক ধরতে শেখে, তবু ঝাঁকুনি কমে।
প্রতিবার যাত্রায় যাঁরা ভেতরে থাকেন, তাঁদের দেখে নতুন করে মিলিয়ে নেওয়ায় হিসাবটা একটু বদলায়। এই ছোট অনিশ্চয়তা মাঝে মাঝে কাজে দেয়, একই ভুলে আটকে থাকতে দেয় না। কিন্তু একা একজন উঠলে, লিফট আগেই জমিয়ে রাখা সাধারণ ধারণা ধরে চালায়, পাশের কারা আছে তাতে আর ফল পাল্টায় না।
সেন্সর স্থির হওয়ার পর ম্যানেজার লিফটকে একটু দ্রুত সাড়া দিতে দিল। আগে করলে লিফটটা ঝাঁকিয়ে উঠত। ভেতরের সংকেতটা যখন একই রকম পরিসরে থাকে, তখন পরের স্তরগুলো বারবার নতুন করে মানিয়ে নিতে হয় না, কাজটা মসৃণভাবে এগোয়।
কয়েকদিন পর লিফটটা একদম নিরস, মানে শান্ত। ভিড় কম হোক বা বেশি, থামা-চলা নরম। মোটর বদলায়নি, বদলেছে মাঝখানের সেই ছোট অংশটা, যা গুছিয়ে নিয়ে আবার দরকারমতো ঠিক করে। এমন কায়দা থাকলে ছবি চিনতে পারা ধরনের অনেক যন্ত্রপাতি কম ঝামেলায় শেখে।