রেড লাইট জ্বলে উঠল, হাতে শুধু কয়েকটা উদাহরণ
কমিউনিটি রেডিওর ছোট ঘরে লাল আলোটা জ্বলে উঠতে যাচ্ছে। শেষ অতিথি বাতিল, আমার সামনে শুধু এক পাতার নির্দেশ আর কিছু প্রশ্ন-উত্তরের নমুনা। ঘড়ির টিকটিক, আর টেবিলের কাগজে চোখ আটকে থাকে।
অনেকে ভাবে, খেলাধুলা, আবহাওয়া, সাক্ষাৎকার, সব কিছুর জন্য আলাদা আলাদা লোক লাগে। কিন্তু যদি একই সঞ্চালক, শুধু সামনে রাখা নির্দেশ আর দুটো উদাহরণ দেখে, নতুন ধরনেও ঠিকঠাক কথা বলতে পারে?
ভাবুন, একই স্টেশনে এক রকম সঞ্চালককে অনেক রকম অভিজ্ঞতা দিয়ে বড় করা হলো, কেউ কম, কেউ বেশি। কিন্তু সবার টেবিল ছোট, একসাথে অল্প কাগজই ধরবে। আগে থেকেই তারা অনেক লেখা পড়ে অভ্যাস বানিয়েছে, পরিষ্কার উৎসকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে।
তারপর তিনভাবে পরীক্ষা, কখনো শুধু নির্দেশ, কখনো একটিমাত্র নমুনা, কখনো টেবিলে যতটা ধরে ততগুলো। মজার কথা, যার অভিজ্ঞতা বেশি, সে নমুনা দেখেই ধরনটা ধরে ফেলে। টেবিলের কাগজ হলো ইশারা, সঞ্চালকের ভেতরের অভ্যাস বদলায় না, টেবিলের জায়গা হলো একবারে যতটা দেখা যায়। তাই ভেতরের শক্তি বেশি হলে, একই কয়েকটা নমুনা আরও দূর পর্যন্ত কাজ করে।
সবচেয়ে অভিজ্ঞ জন অনেক কাজেই ভালো করে, আলাদা করে আবার গড়ে তুলতে হয় না। ফাঁকা শব্দ বসানো, সাধারণ জ্ঞান, এমনকি নমুনা দেখিয়ে দিলে ভালো উত্তর দেওয়াও সহজ হয়। ভাষা বদলাতেও নমুনা থাকলে সুবিধা, কিন্তু কিছু শব্দের সূক্ষ্ম তুলনা বা কঠিন হ্যাঁ-না প্রশ্নে গুলিয়ে যায়, আর বেশি লম্বা বললে কথা ঘুরপাক খায়।
কিছু ক্ষমতা যেন দেরিতে জ্বলে ওঠে। নতুন একটা শব্দখেলা দেখালে, এক-দুবার দেখে নিয়ম নকল করতে পারে। ছোট অংকও ধরতে পারে, কিন্তু ধাপ বাড়লেই হোঁচট খায়।
কিন্তু তারপর অস্বস্তির ভাবনা আসে, সঞ্চালক কি আগে থেকেই কিছু প্রশ্ন শুনে ফেলেছিল? এত লেখা পড়ার ভেতর কিছু প্রশ্ন মিলে যেতে পারে, তাই ফল ফুলে উঠতে পারে। তাই তারা মিল থাকা বাক্য খুঁজেছে, আর পরিষ্কার তালিকা দিয়ে আবার দেখে সতর্ক চিহ্ন দিয়েছে। লাল আলো জ্বলে উঠলে বোঝা যায়, অল্প নমুনায় ফরম্যাট বদলানো সম্ভব, কিন্তু কপি করা কথা, পক্ষপাত, ভুয়া খবর ছড়ানো, আর এমন সঞ্চালক বানানোর খরচ, সব দিকেই চোখ রাখতে হয়।