দুটো ট্রাঙ্ক, এক নাম, আর লুকোনো যোগসূত্রের হিসাব
মঞ্চের পেছনে ধুলো মেখে আমি হাঁটু গেড়ে বসে আছি। সামনে দুটো প্রপসের ট্রাঙ্ক, দুটোর গায়েই একই নাম লেখা। একটাই সমস্যা, জিনিসপত্র এতবার বদলেছে যে কোনটা কার, বোঝা মুশকিল। পাশে তালাবদ্ধ খাঁচা, বাকি সব জিনিস সেখানেই থাকে। আমার দরকার আন্দাজ না, একটা মাপ।
সোজা উপায়টা কষ্টকর। ট্রাঙ্ক বি বারবার খুলে জিনিস আলাদা আলাদা ভাবে সাজাই, তারপর দেখি ট্রাঙ্ক এ-র ছবি কতটা পরিষ্কার হয়। কিন্তু তারপরই ধাক্কা লাগে, সাজানোর ধরন তো অগুনতি। বড় গুদামে এতবার চেষ্টা করা মানে রাত শেষ হয়ে যাবে।
তখন নতুন ভাবনা আসে। সব সাজানো ট্রাই না করে আমি কল্পনায় একটা মেঝের নকশা আঁকি, মঞ্চের পেছনের লুকোনো করিডর আর বন্ধ দরজাসহ। ওই নকশায় ট্রাঙ্ক এ আর ট্রাঙ্ক বি দুটো প্রান্ত, আর তালাবদ্ধ খাঁচা সি হলো বাকি সব। আমি খুঁজি ভেতরের সবচেয়ে সরু গলি, যেটা এ-র দিককে সি-র দিক থেকে আলাদা করে। শিক্ষা, নকশার সবচেয়ে টাইট গলিটাই অনেক চেষ্টা বাঁচায়।
ওই সরু গলি ধরেই আমি হিসাব করি। ট্রাঙ্ক এ যতটা বোঝা যায়, তার থেকে বাদ দিই, এ-র কতটা এখনও খাঁচা সি-র সাথে আটকে আছে। যা থাকে, সেটাই বি দেখে হাতে পাওয়া এ-থেকে-বি মিল। আর এ-আর-বি-র মোট যোগসূত্র থেকে এই সহজে-পাওয়া অংশটা বাদ দিলে যে বাকি থাকে, সেটাই সেই বাড়তি, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকা যোগ।
নকশা যদি সোজা হয়, দুইটা ছোট করিডর, তাহলে সবচেয়ে সরু কাটটা হঠাৎ এক করিডর থেকে আরেকটায় লাফ দেয়, আর উত্তরও টুক করে বদলে যায়। কিন্তু নকশা যদি গভীর আর পাকানো হয়, কিছু পথ ঘুরে ফিরে যায়। একটা অদ্ভুত ছবি দেখা যায়, তাপ বাড়লে সহজ মিল আর মোট বাঁধন দুটোই কমে, কিন্তু ওই বাড়তি যোগ কিছুক্ষণ উল্টো বাড়তে পারে। যেন চোখে পড়া জোড়া প্রপস আগে হারায়, কিন্তু ভেতরের মিলের ছাপ থাকে।
তারপর আমি আরেক ধাপ কড়াভাবে দেখি। ধরলাম ট্রাঙ্ক এ আর বি-র সবচেয়ে শক্ত জোড়া-ধরার সম্পর্কটা হিসাব করে ফেলেছি, তবু কিছু যোগ থেকে যায়। সেটা আসলে শুধু দুই ট্রাঙ্কের গল্প না, ট্রাঙ্ক-ট্রাঙ্ক-খাঁচা তিনজনের একসাথে বসানো গঠন। নকশায় এটা ধরা পড়ে, সরু দরজা ছাড়িয়ে কিছু অতিরিক্ত ঘুরপথের ফাঁক হিসেবে।
সব জায়গায় তো এমন নকশা হাতে থাকে না। তাই আমি ভাবি, একটা আয়নার মতো পরিষ্কার কপি-তালিকা বানাব, যেন প্রতিটা প্রপসের একটা প্রতিচ্ছবি জোড়া আছে। তারপর ট্রাঙ্ক বি-কে হাজার ভাবে সাজানো ছাড়াই দেখি, এই জোড়া-তালিকা এ আর বি-কে কতটা বেঁধে রাখে। ধুলোভরা মেঝেতে বসে বুঝি, আগের মতো শুধু ঢাকনা খুলে দেখা নয়, এখন মাপটা টিকে থাকে, এমনকি সহজ মিল ফিকে হলেও।