মেঘলা আকাশে তোলা অনেক ছবি মিলিয়ে যে দেখা গেল কালো গর্তের রিং
রিং-আকৃতির গ্রহণের আগে পাহাড় আর সমুদ্রতটে লোকজন ঘড়ি দেখে ক্যামেরা ধরল। পাতলা মেঘ বারবার ঢুকে পড়ছে, এক জায়গা থেকে কারও ছবি নিখুঁত হবে না। তবু সবাই চায় এক ঝলকে সেই উজ্জ্বল রিং আর মাঝের কালচে অংশ।
এইবার লক্ষ্য ছিল সূর্য না, অনেক দূরের এক গ্যালাক্সির কেন্দ্রের রেডিও উৎস, নাম এম৮৭*। ধারণা ছিল, গরম গ্যাসের আলো কালো গর্তের টানে বেঁকে রিং বানাবে, আর মাঝখানটা অন্ধকার দেখাবে। ঝামেলা হলো, পৃথিবী থেকে সেই রিং এত ছোট যে একা কোনও টেলিস্কোপে ধরা পড়ে না।
তাই তারা গ্রহণ-দেখার দলের মতো করে পৃথিবীজুড়ে কয়েকটা রেডিও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রকে একসঙ্গে কাজে লাগাল। একই সময়ে সবাই সেই দুর্বল রেডিও ঢেউ রেকর্ড করল, কয়েক রাত ধরে। সময় ঠিকমতো মিললে আলাদা আলাদা ঝাপসা দৃষ্টিও জোড়া লেগে একটা বড় ক্যামেরার মতো কাজ করে।
কিন্তু জোড়া লাগানো ছবিতে ভুলও ঢুকতে পারে। তাই আলাদা দল আলাদা ভাবে ছবি বানাল, আলাদা রাতের ফলও মিলিয়ে দেখল, আর ধার একরকম করে তুলনা করল। তবু একই জিনিস ফিরে এল, প্রায় গোল রিং, আর মাঝখানটা রিংয়ের তুলনায় অনেক বেশি অন্ধকার।
রিংটা সবদিকে সমান উজ্জ্বল ছিল না। এক দিক বেশি জ্বলছিল, আর সেই উজ্জ্বল দাগটা দিনে দিনে একটু সরে যাচ্ছিল। গ্রহণের ছবিতে এমন হলে মেঘ বা ক্যামেরার ঝিলিক দোষী হতে পারে, কিন্তু এখানে কারণটা আলাদা হতে পারে: কালো গর্তের কাছে গ্যাস খুব দ্রুত ঘুরছে, কাছে আসা দিকের আলো বেশি জোরে ধরা পড়ে।
তারপর প্রশ্ন এলো, এই রিংয়ের মাপ থেকে আসলে কী বোঝা যায়। তারা কম্পিউটারে বানানো অনেক সম্ভাব্য দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করল, যেখানে শক্ত মাধ্যাকর্ষণ আর গরম গ্যাসের আচরণ ধরা ছিল, আর সেগুলোকেও একই রকমভাবে “দেখানো” হলো যেন একই যন্ত্রে তোলা। এতে রিংয়ের মাপ থেকে কালো গর্তের ভর আন্দাজ করা গেল, প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন সূর্যের সমান।
আগে এম৮৭* ছিল দূরের একটা বিন্দু আর অনেক অনুমান। এখন সেটা রিং আর মাঝের অন্ধকার দাগ, অনেক জায়গার “মেঘলা ছবি” একসঙ্গে মিলিয়ে বানানো। ঠিক গ্রহণের মতো, এক জনের চোখে না ধরা মুহূর্তও অনেক দিগন্তের চেষ্টা মিললে নিজের ছাপ রেখে যায়।