ঝাপসা ছবিতে কি দেয়ালের আঁচড়ও দেখা যায়?
মিউজিয়াম বন্ধ। আমি দেয়ালজোড়া এক পুরোনো ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে দূর থেকে তোলা ঝাপসা একটা ছবি। মাথায় একটাই প্রশ্ন, এটা দেখে কি কাছে গিয়ে তুলি দাগ আর চিড়ও বোঝা যায়? মস্তিষ্কের স্ক্যান আর টিস্যুর কাছের ছবি জোড়া লাগানোর চেষ্টাও ঠিক এমন।
সমস্যাটা মিলেই যায়। একদিকে দূর থেকে দেখা বড়সড় ভিউ, অন্যদিকে নাক লাগিয়ে দেখা মতো অত কাছের ভিউ। আর একই জায়গার দুই ভিউ একসঙ্গে পাওয়া যায় খুব কম, কারণ দান করা নমুনা হাতে গোনা। মিল কম হলে দুই ভিউয়ের সম্পর্ক শেখাবো কীভাবে?
আগে ঠিক করতে হয়, দুই ছবিই দেয়ালের একই জায়গা দেখাচ্ছে কি না। তাই তারা বিশাল কাছের ছবিটাকে ছোট করে, তারপর একটু একটু করে সরায়, ঘোরায়, আলো-অন্ধকারের দাগ দেখে মিল খোঁজে। শেষে দুই দিকের বড় আকারগুলো কতটা একটার ওপর আরেকটা বসে, সেটা দেখে মিলটা যাচাই করে। মিল না হলে শেখা সবই ভুল জায়গায় দাঁড়ায়।
তারপর বোঝা গেল, এত বড় কাছের ছবি একসাথে ধরা যায় না। তাই সেটাকে জালের মতো করে অনেকগুলো চৌকো টুকরোয় ভাগ করা হলো, একটার সঙ্গে আরেকটা না মিশে। পাশে রাখা হলো পুরো দেয়ালটার একটা কম-ডিটেলের কপি। ফলে শেখার তিনটা ভিউ দাঁড়াল, পুরো দেয়াল, মাঝারি টুকরা, আর ছোট টুকরা; সবই সেই দূরের ভিউয়ের সঙ্গে জোড়া।
অনুবাদ করাতে তারা দুইজনের মতো কাজ ভাগ করল। একজন আঁকে, দূরের স্ক্যান দেখে কাছের মতো একটা নকল টুকরা বানায়। আরেকজন পরখ করে, নকলটা আসলের মতো হলো কি না। আঁকিয়ে চেষ্টা করে পরখকারীকেও সন্তুষ্ট করতে, আর যেখানে আসল জোড়া ছবি আছে সেখানে সেটার কাছাকাছি থাকতে। ভারসাম্য না হলে ছবি হয় কৃত্রিম, না হলে এলোমেলো।
টুকরোর মাপেই চমক। মাঝারি টুকরো অনেক সময় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য দেখায়। পুরো দেয়াল ধরে কাজ করলে নতুন, আগে না দেখা জায়গাতেও বড় কাঠামো আর সীমানা ঠিকঠাক থাকে বেশি। ছোট টুকরো ফিকে আর অস্পষ্ট হয়ে যায়, কারণ এত ছোট জায়গা বুঝতে পারে না সে দেয়ালের কোন অংশে আছে। আর ছোট ছোট টুকরো জোড়া দিলে সেলাইয়ের দাগও পড়ে যেতে পারে।
শেষে আমার ঝাপসা ছবিটা নতুনভাবে ধরা দিল। আসল নতুন জিনিস শুধু “অনুবাদক” নয়, তার আগে করা প্রস্তুতিটা: বিশাল কাছের ছবিকে কাজের মতো করে নামানো, দূরের ভিউয়ের সঙ্গে শক্ত করে মিলিয়ে নেওয়া, তারপর এমন ভিউ বেছে নেওয়া যাতে বড় ছবির ধারণা থাকে। এটা এখনই মাইক্রোস্কোপের বদলি নয়, কিন্তু কিছু কাজে স্ক্যান দেখে আগে থেকে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে, বারবার টিস্যু কাটার দরকার না পড়ে।