ফর্মে শান্ত, কাজে কেমন? এক ক্যাম্পের ছোট পরীক্ষা
যুব ক্যাম্পের নিয়োগঘরে ভাঁজ চেয়ার কটকট করে, ক্লিপবোর্ডে কাগজ ঠকঠক। আমি ফর্মে গোল দিই, চাপেও নাকি শান্ত থাকি। সুপারভাইজার হঠাৎ অভিনয় ধরান: একটা বাচ্চা কাঁদছে, ঝড় আসছে, দুই কাউন্সেলর তর্ক করছে। দুই কাজের একটাই বেছে নিতে হবে।
এখন অনেকে কথা বলা লেখা-যন্ত্রকে মানুষের মতো ব্যক্তিত্বের প্রশ্নপত্র দেয়। উত্তরগুলো শুনলে বেশ গুছানো লাগে, যেন সত্যিই কারও স্বভাব বলছে। ব্যাপারটা হলো, কথায় বলা স্বভাবটা কি জটিল পরিস্থিতিতে বেছে নেওয়া কাজের সঙ্গে মেলে?
এই মিল ধরতে তারা ফর্ম আর অভিনয়কে স্ট্যাপল করে রাখার মতো জোড়া বানায়। তিনটা পরিচিত প্রশ্নপত্র থেকে অনেকগুলো ব্যক্তিত্ব-লাইন নেয়, আর প্রতিটা লাইনের জন্য একেকটা দৈনন্দিন দৃশ্য লেখে, যেখানে দুটো কাজ: একটাই লাইনের সঙ্গে যায়, আরেকটা উল্টো পথে।
সব জোড়া দুই ভাষায় বানানো হয় যেন ভাবটা না বদলায়। নানা ধরনের মানুষের স্বভাব-ছক ধরে কয়েকজন লেখক দৃশ্যগুলো খসড়া করে, পরে অন্যরা মিলিয়ে দেখে একই কথা ধরছে কি না। তারপর মানুষ আর লেখা-যন্ত্র, দুজনকেই ফর্মে নম্বর দিতে আর দৃশ্যে কোন কাজের দিকে ঝুঁকে তা বলতে বলা হয়।
সব লেখা-যন্ত্র এই অভিনয়ের নিয়ম মানতেই পারে না; কারও উত্তর গড়বড় হলে বাদ যায়। বাকিদের ফর্ম-উত্তর দুদিক থেকে ঝাঁকিয়ে দেখা হয়: উল্টো প্রশ্নে নিজেকেই উল্টো বলছে কি না, আর প্রশ্নপত্রের অর্ধেক-অর্ধেকেও স্বভাবটা একই থাকে কি না। কয়েকটা যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত টেকে।
তারপর দেখা যায়, মানুষের ফর্ম আর দৃশ্য বেশির ভাগ সময় একই গল্প বলে। কিন্তু অনেক লেখা-যন্ত্র ফর্মে শান্ত-ধৈর্যের কথা বলে, আর দৃশ্যে বারবার তাড়াহুড়ো বা খিটখিটে কাজের দিকে যায়। একটা যন্ত্র মানুষদের কাছাকাছি আসে, তবু সাধারণ মানুষের মতো মেলে না।
নিয়োগঘরে সুপারভাইজার আমার গোল দেওয়া ফর্মটা টেবিলে রেখে অভিনয়ের পাতায় আঙুল রাখেন। ফর্মে লেখা স্বভাবটা তখনই কাজে লাগে, যখন চাপের মুহূর্তে বাছাই করা কাজেও সেটা দেখা যায়। তাই শুধু প্রশ্নপত্রের উত্তর দেখে ভরসা না করে, পাশে এমন দৃশ্য-ভিত্তিক বাছাইও রাখা দরকার।