একটা বাটির গ্লেজ ঠিক করতে গিয়ে মাথায় এলো নতুন কায়দা
মাটির কাজের ঘরে চাকা থেকে একটা বাটি তুলে বাতির নিচে ঘোরালাম। এক পাশে গ্লেজ মসৃণ, আরেক পাশে জমে মোটা। এভাবে থাকলে গড়িয়ে পড়বে। তাকভরা বাটি দেখে মিলিয়ে নেওয়ার সময় নেই; এই বাটিটাকেই এখন ঠিক করতে হবে।
অনেকে যা করে, সেটা নতুন শাগরেদের মতো। সে কয়েকটা বাটি একসাথে দেখে আন্দাজ করে, গড়ে গ্লেজ কতটা মোটা, তারপর বলে পরেরবার কতটা পাতলা বা ঘন করতে হবে। দলটা বড় আর একরকম হলে চলে, কিন্তু পাশে কারা আছে তার ওপর এই বাটির সিদ্ধান্ত ঝুলে যায়।
এখানে নতুন কায়দা হলো বাটিটাকে ভিড়ের ওপর না রেখে, নিজের শরীর থেকেই ঠিক করা। বাটির গায়ে অনেক জায়গায় হালকা ছোঁয়া দিয়ে মোটা-পাতলার গড় আর ওঠানামা ধরলাম, তারপর পুরো গায়ে এমনভাবে টান দিলাম যেন ভারসাম্য আসে। পরে নিজের পছন্দমতো একটু গাঢ়, একটু হালকা করা যায়।
ভাবলাম, গ্লেজ তো একবারে শেষ না; বারবার হাত চলে। শুরুতে সামান্য কাত হলে পরে সেটা গড়িয়ে বড় ঝামেলা করে, আবার বেশি পাতলা হলে রং ফ্যাকাসে লাগে। লম্বা ধাপে চলা কিছু যন্ত্রেও ভেতরের মান ধীরে ধীরে ফুলে ওঠে বা শুকিয়ে যায়। প্রতি ধাপে এই বাটি-ভিত্তিক সমান করা সেই ভেসে যাওয়া আটকায়।
ভালো দিকটা, একটাই বাটি থাকলেও কাজটা একই। দশটা বাটি থাকলে যেমন, একটা থাকলেও তেমন। আগের দিনের তাক কেমন ছিল, সেই হিসাব মাথায় রাখতে হয় না। ধাপে ধাপে কাজেও প্রতিটা মুহূর্তে আলাদা করে এই সমান করা বসানো যায়।
আরেকটা শান্ত ব্রেক আছে। যদি কোনো বাটিতে মোটা-পাতলা খুব বেশি ছড়ায়, তখন ভাগের ঘরে সেই ছড়ানোটা বড় হয়, ফলে পরের টানটা আপনাতেই নরম হয়ে যায়। পুরো বাটির গ্লেজ একসাথে একটু বাড়লে বা কমলে এই সমান করা বেশিরভাগটাই কাটিয়ে দেয়, কিন্তু শুধু একটুখানি দাগ উঠলে সেটা লুকিয়ে যায় না।
এই কায়দা সবচেয়ে কাজে লাগে যখন ধাপ অনেক লম্বা, যেখানে একটু ভুল জমে বড় হয়। তখন কাজটা অনেক সময় দ্রুত আর স্থির লাগে। কিন্তু ছবি-কেন্দ্রিক কাজে সব জায়গা একরকম নয়, বাটির কিনারা আর মাঝখান যেমন আলাদা শুকায়। ব্যপারটা হলো, ভারসাম্য পেতে আর ভিড় দরকার পড়ে না; প্রতিটা বাটিই নিজের নিয়মে নিজেকে সামলে নেয়।