মঞ্চের ধোঁয়া আর ঘরের স্মৃতি ধরার খাতা
ছোট থিয়েটারের পাশে বসে স্টেজ ম্যানেজার দেখল, মেঝের ধোঁয়া এখনো গড়াচ্ছে। বাদক থেমে গেছে, কিন্তু লম্বা একটা সুর ঘরে ঝুলে আছে। পরের আলো বদলানোর সময় হয়েছে, তবু ঘরটা শূন্য থেকে শুরু করছে না।
অনেকে সহজ করে ধরে নেয়, চারপাশ সঙ্গে সঙ্গে সব ভুলে যায়। তাহলে প্রতিটা নতুন ইশারায় ঘর একদম শান্ত থাকত। কিন্তু জোরে শব্দ হলে, কোণায় ধোঁয়া জমলে, পুরনো প্রতিধ্বনি ফিরে এসে আজকের কাজটা ঠেলে দেয়, ঠিক যেভাবে অনেক যন্ত্রে চারপাশ স্মৃতি রাখে।
তাই স্টেজ ম্যানেজার একেক মুহূর্তে আলাদা আন্দাজ না করে একটা পুনর্ব্যবহারযোগ্য খাতা বানাল। খাতাটা বলে দেয়, এই ক্রমে আলো, ধোঁয়া, শব্দের ইশারা দিলে, প্রতিটা ধাপে মঞ্চের অবস্থা কী হবে। takeaway, ঘর যখন মনে রাখে, তখন ধারাবাহিক কাজ ধরতে হয়।
খাতাটা বানাতে সে দুই রকম কারণ আলাদা করে দেখে। একদিকে শিল্পী আর যন্ত্রপাতি ইশারায় যেমন সাড়া দেয়। আরেকদিকে ঘর আগের ধোঁয়া আর প্রতিধ্বনি বয়ে এনে পরে ফেরত দেয়। ইশারা মানে কাজ, ঘর মানে চারপাশ, আর ফিরে আসা ঢেউ মানে সময় পেরোনো স্মৃতি।
প্রথমে মনে হলো খাতা পাহাড় হয়ে যাবে, কারণ ইশারার ক্রম তো শেষ নেই। কিন্তু বেশির ভাগ ঘর চিরকাল মনে রাখে না, ধোঁয়া পাতলা হয়, প্রতিধ্বনি ফিকে হয়। তাই খাতাটা ছোট ছোট জোড়া পাতার মতো করে রাখা যায়, যেখানে অল্প কয়েকটা জোড়াই দরকারি স্মৃতি টেনে রাখে।
এখন স্টেজ ম্যানেজার দ্রুত অনেক রকম তাল মিলিয়ে দেখে, একবার টোকা নয়, পুরো ছন্দ দিলে ঘর কী করে। এখন সে জিজ্ঞেস করতে পারে, আজকের ছোট বদল কালকের আলো বদলকে কীভাবে পাল্টায়। আগে যেটা হঠাৎ ধাক্কা দিত, সেই ধোঁয়া আর প্রতিধ্বনি এখন পরিকল্পনার ভেতরেই থাকে।