অ্যাকুয়ারিয়ামের ট্যাঙ্কটা ঠিকই ছিল, তবু ভেতরে কিছু বদলে গেল
অ্যাকুয়ারিয়াম খোলার আগে আমি বড় নোনা পানির ট্যাঙ্কটার সামনে দাঁড়ালাম। গত সপ্তাহে সব ঠিক ছিল, আজ এক সাহসী মাছ সেরা কোণটা দখল করেছে, ছোটগুলো পাথরের আড়ালে। কাঁচ পরিষ্কার রাখা চিংড়িটাও নেই। ট্যাঙ্কটা এক জাল, একজন নড়লেই বাকিরা সরে।
কেউ এলে বলত, পানি একটু ঘোলা, চিংড়িটা হারিয়েছে, ছোটখাটো দুর্ঘটনা। অর্থনীতিতেও অনেক সময় সংকট, ফারাক, বড় কোম্পানির দাপট, মাটি-পানির ক্ষতিকে পাশের ঝামেলা ধরা হয়। কিন্তু ট্যাঙ্কে একই ঝামেলা বারবার হলে, নিয়মকানুনই ঝামেলাটা বানাচ্ছে।
আমি জেতা-হারা না দেখে ট্যাঙ্কের সম্পর্কগুলো আঁকি। কোথাও দুপক্ষই লাভে, মাছ চিংড়িকে থাকতে দেয়, চিংড়ি গা থেকে জ্বালা কমায়। কোথাও একপক্ষ শুধু আশ্রয় নেয়, পাথর কিছু হারায় না। কোথাও ক্ষতি, দাদাগিরি, কামড়, তাড়িয়ে দেওয়া। অর্থনীতির সম্পর্কও এমনই, মিশ্রণটাই ফল বানায়।
আজ দেখলাম ছোট একটা ধাক্কা কীভাবে ছড়ায়। দাদাগিরি মাছ খাবার আটকে দিলে দুর্বল মাছ শেওলা খায় না, শেওলা বাড়ে, পানিতে বাতাস কমে, সবাই খিটখিটে হয়। ক্ষতি এমনভাবে আবার ক্ষতি ডাকে। অর্থনীতিতেও অনেক কিছু জোড়া, তাই ক্ষতিকর সম্পর্ক বেশি হলে বৈচিত্র্য কমে, ভেতরটা ভঙ্গুর হয়।
তর্ক না বাড়িয়ে আমি ট্যাঙ্কের জন্য একটা সহজ মাপ ভাবি। সাহায্য করা সম্পর্ক কতটা শক্ত, আর কত রকম প্রাণী আছে, সেটা এক পাশে। ক্ষতি করা সম্পর্ক কতটা শক্ত, সেটা আরেক পাশে। সাহায্যের দিক ভারী হলে ধাক্কা সামলায়, ক্ষতির দিক ভারী হলে বাইরে থেকে ঠিকঠাক দেখালেও হঠাৎ টলে যায়।
দিন শেষে আমি বলি না, ট্যাঙ্কে প্রতিযোগিতা থাকবে না। লক্ষ্যটা বদলায়, সাহায্য করা সম্পর্ক যেন বেশি হয়, ছড়িয়ে থাকে, আর ক্ষতি করা সম্পর্ক যেন লাগাম পায়। অর্থনীতিও এমন, এটা সমাজের নিয়মের ভেতরে, আর সবকিছুই জীবন্ত দুনিয়ার সীমার ভেতরে। তাই দূষণ বা সামাজিক ক্ষতি বাইরের ভুল নয়, অনেক ক্ষতিকর সম্পর্ক পুরস্কার পেলে এগুলো গড়িয়ে আসে।