ফিল্ম বাছাইয়ের তালিকায় যে ফাঁকটা ধরা পড়ে গেল
উৎসব অফিসে আলো কম। প্রোগ্রামার প্লে চাপতেই হাজারটা জমা পড়া ফিল্ম গুছিয়ে একটা তালিকা বানাল। স্বেচ্ছাসেবক বলল, গতবার ছোট শহরের সেই চুপচাপ ছবিটা সবাইকে চমকে দিয়েছিল, এবার ওর মতো কণ্ঠই নেই। এখানে ফিল্ম মানে চাকরিপ্রার্থী, বাছাইয়ের টুল মানে ছাঁকনি, জুরি মানে শেষ সিদ্ধান্ত, আর উৎসবের পরের খবর মানে কাজের পরের মূল্যায়ন।
দলটা ফিল্মের পথটা হাঁটল। আগে ডাকটা কার কানে পৌঁছায়, তারপর ঝটপট ছাঁকনি কোনটা পুরো দেখা হবে ঠিক করে, তারপর জুরি ডাকে, শেষে দর্শক আর স্পনসর কী বলল। ব্যাপারটা হলো, গতবারের পছন্দ দিয়ে পরের বছরের ছাঁকনি ঠিক করলে পুরোনো অন্ধ জায়গাগুলো চুপচাপ শক্ত হয়ে যায়। শুধু শেষ ডাক দেখলে আগের গেটগুলো চোখে পড়ে না।
সমন্বয়কারী একটা খাতা খুলে বলল, খারাপ ইচ্ছে না থাকলেও পাল্লা হেলে যায়। নামী স্টুডিও বা স্কুলের দিকে ঝোঁক, পরিচিতদের ভরসা, টাকা-সময় না থাকায় অনেকে বানানো থামায়। কেউ হয়রানির ভয় পায়, কেউ দূরে যেতে পারে না, কারও দেখাশোনা বা অসুখে ফাঁক পড়ে। আবার ডাকের বিজ্ঞাপন কার কাছে বেশি যায়, ফর্ম কার জন্য কঠিন, ভিডিও কার মুখ-উচ্চারণে ভালো চলে, আর মেশিনের নম্বরকে মানুষ বেশি বিশ্বাস করে।
তারপর তারা বুঝল, “ন্যায্য” বলতে তারা আলাদা আলাদা জিনিস ধরছে। কারা ডাকে, তালিকার একদম ওপরে কারা থাকে, নম্বর কি সবার জন্য সমানভাবে ঠিকঠাক, প্রক্রিয়াটা কি সবার সঙ্গে একই রকম ভদ্র ছিল। পোস্টার-ট্রেলারে কাদের দেখা যায় সেটাও। শুধু মোট ডাকের হার ঠিক দেখালেও তালিকার প্রথম দিকটা বছর বছর একরকম থাকলে ক্ষতটা লুকিয়ে থাকে।
সমাধান নিয়েও তর্ক হলো, আর চাকরির বাছাইয়েও ঠিক এই জায়গাগুলো বদলানো যায়। শুরুতে কাগজপত্র থেকে পরিচয়ের ইঙ্গিত কমানো, ছাঁকনিকে শেখাতে পুরোনো পছন্দের বাইরে উদাহরণ রাখা। তালিকা বানানোর সময় নাম-চেহারা-উচ্চারণের সহজ শর্টকাটে কম ভরসা করতে বাধ্য করা। আর শেষে তালিকাটা নতুন করে সাজানো, যাতে প্রথম পাতা থেকেই নানা রকম কণ্ঠ দেখা যায়। কিন্তু এতে অনেক সময় সংবেদনশীল পরিচয় জানা লাগে, যা গোপনীয়তার সঙ্গে ধাক্কা খায়।
আরেকটা চিন্তা এল। হিসাব-নিকাশ সবচেয়ে বেশি থাকে শুরুর ধাপে, কারণ সেখানেই রেকর্ড রাখা সহজ। পরে ডাকা মানুষদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার হলো, তারা টিকে থাকল কি না, এসব খবর ঝাপসা। তথ্য অনেক সময় কয়েকটা ভাষা আর কয়েকটা দেশের দিকেই ঝোঁকে, আর অক্ষমতা বা পরিচয়ের অনেক দিক ধরা পড়ে না। লক্ষ্যও বদলায়, ভিড় বাড়ানো না ভালো কাজকে জায়গা দেওয়া। মহামারির মতো ধাক্কায় সব নিয়মই হঠাৎ পুরোনো হয়ে যেতে পারে।
শেষ রাতে সমন্বয়কারী তালিকাটাকে আর একা দোষ দিল না। সে দেয়ালে একটা লম্বা পথ আঁকল: কে ডাকটা শুনল, কে শুরুতেই বাদ পড়ল, কারা তালিকার ওপরে উঠল, আর পরে কী হলো যা পরের বছরকে শেখায়। ভিডিও আর মুখ দেখে বিচার করা টুলে ফাঁক বেশি হতে পারে, তাই সে সেখানে বেশি সাবধান হতে বলল। কালকের বাছাই যেন গতকালের প্রতিক্রিয়ায় চুপচাপ লেখা না হয়ে যায়।