লম্বা জিনিস মানেই বেশি প্যানেল লাগবে, এই ভুলটা ভাঙল কীভাবে
শিপিং ওয়ার্কশপে সবাই মিলে একটা অদ্ভুত বাঁকানো ভাস্কর্যের চারপাশে সমান ফোম প্যানেল বসাচ্ছি। ভাস্কর্য ছুঁবে না, কিন্তু ফাঁকটাও খুব কম। দলনেতা পাতলা প্লাস্টিক ফিতা ঢুকিয়ে মেপে বারবার বলে, “কতটা প্যানেল হলেই চলবে?”
পুরোনো হিসাব বলে, জিনিসটার এক মাথা থেকে আরেক মাথা যত লম্বা, তত বেশি প্যানেল লাগবে। কিন্তু ভাস্কর্যটা ডিঙির মতো লম্বা আর চিকন। লম্বা অনেক, জায়গা নেয় কম। তবু পুরোনো হিসাব মানে অযথা খরচ।
একজন নতুন প্রশ্ন তোলে। ভাস্কর্যটা গলিয়ে যদি একই পরিমাণে একদম গোল বল বানাই, সেই বলটা কতটা চওড়া হবে? ওই চওড়াটাই নাকি আসল মাপ। ব্যাপারটা হলো, খুব পাতলা চাদরের মতো অংশ থাকলে এই হিসাব গুলিয়ে যায়, তাই ন্যূনতম পুরুত্বটা ফাঁকের চেয়ে কম হলে চলবে না।
আমরা প্রমাণ করতে গিয়ে পুরোনো কৌশল ধরলাম। বাইরের মোড়কে ছোট ছোট সমান “প্যাড” বসিয়ে গোনা, যেন প্রতিটা প্যাড ভাস্কর্যের গায়ে একটা অংশ ঢাকে। কিন্তু চিকন জায়গায় প্যাডটা বাইরের মোড়ক ধরে বসে, আর তার বেশিটাই পড়ে থাকে ফাঁকা বাতাসে। গোনাটা তখন বিশ্বাসযোগ্য থাকে না।
তাই আমরা ভাস্কর্য আর বাইরের মোড়কের মাঝখানে আরেকটা “মাঝের মোড়ক” বানালাম। এটা দূরত্বের অর্ধেক না। এমনভাবে বানালাম যেন ভাস্কর্যের গায়ে প্যাড রাখলে প্যাডের একটা ভালো অংশ নিশ্চিতভাবে ভাস্কর্যের ভেতরে পড়ে, আর ভেতরের দিকে তার ছায়াটাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে প্যাড মানেই সত্যি ঢাকনা।
এবার আমরা যত বেশি সম্ভব প্যাড বসালাম, কিন্তু এমনভাবে যেন তারা একে অন্যকে বেশি চাপা না দেয়, যেমন সাকশন কাপ ঠিকঠাক বসালে ধাক্কা লাগে না। প্রতিটা প্যাডকে আমরা মাঝের মোড়কের ভেতরে নিজের আলাদা “জায়গার শঙ্কু” ধরতে দিলাম, যাতে একই ভেতরের জায়গা দুইবার ধরা না হয়। এতে মোট প্যাড, মানে মোট প্যানেল, আন্দাজ করা যায়।
শেষে শেলটা ঠিক ফাঁক রেখে ভাস্কর্যকে ঘিরল, কিন্তু প্যানেল লাগল অনেক কম, বিশেষ করে যেগুলো লম্বা আর চিকন। আগে আমরা টিপ থেকে টিপ মাপ দেখে ভয় পেতাম। এখন আমরা দেখি জিনিসটা আসলে কতটা জায়গা ধরে, আর সেই মাপেই কাজটা ঠিকঠাক হয়।