গুদামের চারটা স্লাইডার আর একটা অদ্ভুত সত্য
রাতের শিফটে ত্রাণের গুদামে ড্রিল চলছে। এক দল কিট ভরছে, কিন্তু অনেক জিনিস দূরের আরেকটা হ্যাঙ্গারে। সমন্বয়ক ঘড়ি, ক্লিপবোর্ডের আসল সময়, আর ল্যাপটপের সিমুলেটরের চারটা স্লাইডার দেখে। লক্ষ্য একটাই, নকল ড্রিলটা যেন আসলটার মতোই শেষ হয়।
সমস্যা হলো, সবাই সিমুলেটর চালায়, কিন্তু স্লাইডার কীভাবে ঠিক করল কেউ লিখে রাখে না। অভিজ্ঞ কেউ আন্দাজ করে, মিলিয়ে দেখে, আবার বদলায়। এতে দিন লেগে যায়, আর ছোট ব্যাপারে ভুল ঢুকে পড়ে, যেমন কাছে টেবিলে কিছু জিনিস আগে থেকেই আছে কি না।
এবার তারা টিউনিংকে একটা ঘড়ি ধরা খেলা বানাল। প্রতিটা স্লাইডারের জন্য কতটা পর্যন্ত ঘোরানো যাবে ঠিক করল, আর “কতটা মিলল” তার নম্বরও। শুধু একবারের মোট সময় না, অনেক স্টেশনের গড় সময় মিলিয়ে দেখে, আর বিভিন্ন শুরুর অবস্থায় চালায়, কখনো কাছে কিছু মজুত, কখনো একদম নেই।
একজনের হাতে না রেখে, অনেকগুলো ছোট ট্রাই একসাথে চালাল, যেন অনেক সহকারী আলাদা আলাদা করে ড্রিল চালিয়ে নম্বর এনে দিচ্ছে। কেউ মোটা করে সেটিং বসিয়ে ধীরে ধীরে সেরা দিকটা টাইট করে, কেউ এলোমেলো করে ছুড়ে দেখে, কেউ একটু বদলে ভালো হলে সেই দিকেই এগোয়। বড় রেঞ্জে সময় নষ্ট না করতে তারা ধাপে ধাপে লাফ দিয়ে সেটিং বদলায়।
তারপর তারা এমন কাজ নিল যেখানে অনেকগুলো কাজ দূরের স্টোর থেকে বড় ফাইল টানে, কাজ করে, আবার ফল লিখে। তারা দূরের পথটা কখনো ধীর, কখনো দ্রুত রাখে, আর কখনো “কাছে টেবিল” চালু, কখনো বন্ধ। চমকটা এখানে, টেবিল চালু থাকলে মানুষের বেছে নেওয়া স্লাইডার অনেক সময় ভুল করে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয় খোঁজটা আসল গড় সময়ের খুব কাছাকাছি বসে যায়।
কিন্তু একটা ফাঁদ ধরা পড়ল। যদি পুরো কাজটা একটাই গলদে আটকে থাকে, যেমন স্টোর থেকে দেওয়া-নেওয়াটা খুব ধীর, তাহলে বাকি স্লাইডার নানাভাবে ভুল হলেও মোট সময় প্রায় একই দেখাতে পারে। তখন আজকের ড্রিলে মিললেও, অন্য ড্রিলে যেখানে অন্য জায়গায় চাপ পড়ে, সেটিংটা ভেঙে পড়তে পারে।
আরো দুটো শেখা এল। সব শুরুর অবস্থাই লাগবে না, দু-একটা একেবারে আলাদা অবস্থাই অনেক সময় যথেষ্ট, কারণ একেকটা চেক সস্তা হলে বেশি সেটিং ঘেঁটে দেখা যায়। মজার কথা, একটু রাফ সিমুলেশনও কাজে দেয়, কারণ দ্রুত চালালে বেশি চেষ্টা করা যায়। শেষে সমন্বয়ক ক্লিপবোর্ডটা নামিয়ে রাখে, টিউনিংটা আর গোপন হাতের কাজ থাকে না, সময় আর মিলের একটা খোলাখুলি লেনদেন হয়ে যায়।