আর্কাইভের টেবিলে যেসব গল্প নেই, সেখানেই ফাঁকটা লুকোনো
কমিউনিটি আর্কাইভের ঘরে আমি টেবিলে রেকর্ড করা জীবনকথার ফাইল সাজালাম। লেবেল ঝকঝকে, সারাংশ পাতায় একটাই শিক্ষা টানা। কিন্তু চোখে পড়ল, যারা এসেছে তাদের বেশির ভাগেরই সময়, যাতায়াত, আর সাহস ছিল। অনুপস্থিত কণ্ঠগুলো এলোমেলো নয়।
অনেকে চায় এক কথার জবাব, গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে শিশুর ওজন কমে কি না। কিন্তু বাস্তবে কেউ লটারিতে ধূমপায়ী বা অধূমপায়ী হয় না। চাপ, ঘরের সহায়তা, টাকা-পয়সা, অসুখ, এলাকার অভ্যাস, এগুলো সিদ্ধান্ত আর ফল দুটোতেই হাত দেয়। অনেক কিছুই লেখা থাকে না।
আর্কাইভে যেমন কার্ডে বয়স, কাজ, এলাকা লেখা থাকে, কিন্তু ভয় বা শোক লেখা থাকে না। নতুন কৌশলটা বলে, লেখা তথ্য দিয়ে দুটো আন্দাজ একসাথে ধরো। কে ধূমপানে যেতে কতটা সম্ভাব্য ছিল, আর সেই লেখা তথ্য থাকলে শিশুর ওজন কেমন হতে পারত।
তারপর দুই আন্দাজ মিলিয়ে হিসাবটা সামলে নেয়। যাদের ধূমপানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল, তাদের অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যেন দলে ভাগ হওয়া কেবল সহজ লোকদের দিয়ে না বোঝা হয়। আর ওজনের আন্দাজটা ফাঁকভরতি করে, যাতে কেবল ভাগ্যক্রমে পাওয়া কেসে গল্পটা দুলে না যায়।
কিন্তু তারপর আসে অদেখা জিনিসের প্রশ্ন। আর্কাইভে ধরো, কারও প্রকাশ্যে কথা বলার নিরাপত্তাবোধ লেখা নেই। সেই নিরাপত্তাবোধ যদি ধূমপানের দিকেও ঠেলে দেয়, আর শিশুর ওজনের দিকেও, তাহলে একটাই ডায়াল ধরা হয়, এই লুকোনো টানটা কতটা শক্ত।
ডায়ালটা কেউ নিশ্চিত জানে না, তো একটামাত্র উত্তর না দিয়ে একটা পরিসর বের হয়। ডায়াল কম হলে ফলটা টাইট থাকে, ডায়াল বেশি হলে পরিসর চওড়া হয়। শেষটায় আরেকটা ঠিকঠাক যোগ হয়, কারণ দরকারি এক মাপ কেবল দেখা লোকদের দিয়ে ধরলে ভুল হতে পারে, সেটা ঠিক করে নেওয়া হয়।
ঘর বন্ধ করার আগে আমি সারাংশ পাতায় হাত বুলালাম। আগে পাতাটা একটাই কথা বলত, এখন পাশে একটা চওড়া দাগ, কতটা অদেখা টান থাকলে কথাটা বেঁকে যেতে পারে। আর্কাইভের দরজা কারা পেরিয়েছে, আর কারা পারেনি, সেটা না ভাবলে সারাংশও চুপচাপ ভুল পথে হাঁটে।