নাম ট্যাগ সামনে, তবু ভুল জুতো কেন?
থিয়েটারের পোশাকঘরে আমি হ্যাঙ্গার ঠেলছি। প্রতিটায় নাম ট্যাগ ঝুলছে। কালকের মহড়ার জন্য পরিচালক এক জনের জুতো চান, আর আমি আবার ভুল জুতো তুলে ফেলি। জিনিসপত্র কম না, কিন্তু ঠিক জায়গায় চোখ যাচ্ছে না।
এই পোশাকঘরটা ধরো এমন এক লেখা-শেষ-কথা আন্দাজ করা যন্ত্রের মাথা। ওকে অনেক ছোট ছোট বানানো জীবনকথা পড়ানো হয়। প্রতিটা মানুষের আলাদা নাম, আর কয়েকটা আলাদা তথ্য। বাক্যগুলো নানাভাবে লেখা, সব গুলিয়ে দেওয়া, তাই মুখস্থ কপি করলে চলবে না।
শুরুর দিকে যন্ত্রটা সহজ জিনিস ধরতে শেখে। যেমন আমি দেখি বেশির ভাগের জুতো গাঢ় রঙের, জ্যাকেট সাদামাটা। এতে মনে হয় অনেকটা এগোল, কারণ সাধারণভাবে কোনটা বেশি দেখা যায় সেটা ঠিক ধরে। কিন্তু কার নাম শুনে কার জিনিস তুলতে হবে, সেটা তখনও গুলিয়ে ফেলে।
তারপর অনেকক্ষণ ধরে একই ভুল চলতে থাকে। নাম ট্যাগ সামনে থাকলেও আমি যেন সবাইকে এক রকম ধরে সবচেয়ে সাধারণ জিনিসই টানি। লোক যত বেশি, তত কম বার করে এক এক জন সামনে আসে, তাই নাম দেখে ঠিক ড্রয়ার খোঁজার অভ্যাস গড়ায় দেরি হয়। নাম ট্যাগ মানে নাম, ড্রয়ার মানে ভেতরে জমা মিল, আর আমার প্রথমে কোথায় তাকাই সেটাই যন্ত্রের নজর। শেখা কথা: নামের দিকে নজর না ফিরলে ঠিক মিল বসে না।
পরে বদলায় তথ্য না, বদলায় তাকানোর অভ্যাস। কোন তথ্যের প্রথম শব্দ বলতে যাওয়ার ঠিক আগে যন্ত্রটা নামের দিকে বেশি নজর দেয়, যেন আমি জুতো তুলতে গিয়ে আগে ট্যাগটা দেখে নিই। মজার ব্যাপার, পরে-শেখা এই নজরের ধরনটা আগেই ধরিয়ে দিলে শেখা হঠাৎ দ্রুত হয়; শুরুর ভুল নজর ধরিয়ে দিলে উল্টো আরও খারাপ হয়।
মহড়ার তালিকাও প্রভাব ফেলে। শুরুতেই যদি সবাই সমান কম আসে, ট্যাগ দেখার অভ্যাস গড়াতে সময় লাগে। যদি শুরুতে কয়েক জন বেশি আসে, বারবার দেখে অভ্যাসটা আগে বসে, পরে বাকিদেরও ধরা সহজ হয়। কিন্তু খুব একপেশে হলে পরিচিত কয়েক জনে আটকে যায়, বাকিদের ভুল বাড়ে। তাই ছোট দল দিয়ে গরম করে, পরে পুরো দল আনলে কাজটা সহজ হয়।
অভ্যাসটা শক্ত হলে আরেকটা মানবিক ফাঁদ দেখা দেয়। নতুন এক জন এলে, যার ট্যাগই নেই, আমি অনিশ্চিত না হয়ে আত্মবিশ্বাসে কারও অন্য জুতো দিয়ে দিই। আর নতুন সিজনে দ্রুত নতুন দল শেখাতে গেলে, পুরনো মিলগুলোও দ্রুত মুছে যায় যদি পুরনো শোটা মাঝে মাঝে না চালাই। তখন বোঝা যায়, মনে রাখা আসলে দুই ভাগ: ভেতরে জমা মিল, আর ঠিক জায়গায় নজর পাঠানোর অভ্যাস। একটার জোর বাড়লেও অন্যটা নরম থাকতে পারে।