কুয়াশার ভেতরেও কীভাবে দূরের ছন্দ ধরা পড়ল
ঠান্ডা হাওয়ায় পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে আমি চোখে তুললাম কোণ মাপার ছোট একটা কার্ড। নিচের উপত্যকা জুড়ে ছোট ছোট বাতি, কিছু ঝকঝকে, কিছু কুয়াশায় ম্লান। আমি বাতি গুনছি না। খুঁজছি, দুটো বাতির মাঝে একটু বেশি দেখা যায় এমন একরকম ফাঁক।
আকাশে ওই বাতিগুলো আসলে গ্যালাক্সি। ওই একটু বেশি দেখা যায় এমন ফাঁকটা পুরনো মহাজাগতিক ঢেউয়ের রেখে যাওয়া ছাপ, এক ধরনের মাপজোকের দণ্ড। কুয়াশাটা হলো দূরত্বের ঝাপসা আন্দাজ। শিক্ষা একটাই, দূরত্ব ঝাপসা হলেও একই ছন্দ বারবার ফিরলে কোণ দিয়ে ধরা যায়।
আগে এই দণ্ড ধরতে গেলে অনেক সময় খুব ধারালো দূরত্ব-ট্যাগ লাগত, যেন প্রতিটা বাতির জন্য আলাদা দূরত্ব মাপার যন্ত্র। এখানে তারা শুধু ছবির রং দেখে দূরত্বের ইঙ্গিত নিল। এতে গ্যালাক্সি অনেক বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু ঝাপসায় সেই ছন্দ মুছে যাওয়ার ভয় থাকে।
তাই তারা আগে ঠিক করল কোন বাতিগুলো বিশ্বাস করবে। কয়েক বছরের ছবিতে একই রকম রং আর উজ্জ্বলতার সহজ নিয়মে অনেক গ্যালাক্সি বাছল, আর আগের চেয়ে দূর পর্যন্ত গেল। উপত্যকায় যেমন নির্দিষ্ট রঙের কাঁচের, একটু উজ্জ্বল বাতি নিলে কুয়াশা কম ঠকায়, আর দূরত্বের মতো করে আলাদা আলাদা দলে ভাগ করলে কাছে-দূর মিশে যায় না।
তারপর তারা একই ছন্দ মাপল তিনভাবে, যেন পাহাড়ে তিন দল আলাদা করে গুনছে। এক দল দেখল কোণ বাড়লে জোড়া কতটা বদলায়। আরেক দল একই তথ্যকে ভিন্ন ভিন্ন কোণের ছাঁচে সাজাল, যেন ভিড়ের শব্দে ভারী আর চিকন সুর আলাদা করে শোনা। তৃতীয় দল এমনভাবে গুনল যাতে ঝাপসা দূরত্ব কম ক্ষতি করে।
প্রতিটা পক্ষপাতকে তারা ধরল লেন্সের দাগের মতো। কোথাও ছবি খারাপ, কোথাও ধুলো বেশি, কোথাও কম ছবি, এগুলো নকল গুচ্ছ বানাতে পারে। তাই তারা এগুলো ঠিক করল, দূরত্বের আন্দাজ একটু এদিক-ওদিক হলে ফল কতটা নড়ে দেখে নিল। অনেক কৃত্রিম আকাশ বানিয়ে বারবার প্র্যাকটিস করল, আর শেষ কোণটা নিজেদের কাছেও লুকিয়ে রাখল যতক্ষণ না সব যাচাই ঠিকঠাক।
শেষে লুকোনো ফল খুলতেই তিনভাবে মাপা কোণ একই জায়গায় এসে মিলল, শুধু ছবি দিয়েই বেশ টাইটভাবে। মানে কুয়াশা থাকলেও বিশাল ফটো মানচিত্রে ওই মহাজাগতিক দণ্ড ধরা যায়। কার্ডটা নামিয়ে আমি নিচের বাতিগুলোর দিকে তাকালাম, এত ঝাপসার মধ্যেও জেদি একটা ছন্দ ঠিকই ধরা পড়ে, যদি তাড়াহুড়ো না করি আর তিনভাবে মিলিয়ে দেখি।