ঝাপসা ছবিটা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকল
ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠল। ছবিটা যেন ধুলোঝড়ে টেনে আনা, মুখটা বোঝা যায় না। আমি “রিস্টোর” বারটা টানলাম, দানাদার দাগ একটু কমল, আবার টানলাম, শেষে মুখ আর পেছনের দৃশ্যটা ঠিকঠাক ফুটে উঠল।
নতুন ছবি বানানোও এমনই কঠিন। একবারে পুরো ছবিটা ঠিক করতে গেলে কোথাও চামড়া প্লাস্টিকের মতো লাগে, কোথাও আবার দাগ লেগে থাকে। এক সোয়াইপে নষ্ট ছবি নিখুঁত করার চেষ্টা করলে যেমন হয়, তেমনই।
এদের নতুন কৌশল উল্টো দিক থেকে শুরু করে। শুরু হয় একদম এলোমেলো দানাদার ঝাপসা দিয়ে, তারপর ধাপে ধাপে দাগ কমিয়ে ছবি বের করে। আরেকদিকে তারা ঠিক করে রাখা পথে আসল ছবিতে বারবার দাগ যোগ করে, যেন শেষে প্রায় শুধু দাগই থাকে।
মজার বদলটা হলো, প্রতিটা ধাপে তারা “পরের পরিষ্কার ছবি” ধরতে বলে না। তারা বলে, এই ধাপে যে দাগটা যোগ হয়েছিল, ঠিক সেই দাগটা চিনে দেখাও, তারপর সেটাই বাদ দাও। চোখের পাপড়ি বানিয়ে দেওয়ার চাপ নেই; দাগটা চেনা সহজ।
চর্চার সময় তারা সব ধাপ একটার পর একটা চালায় না। যেকোনো এক রকম দাগ বেছে নিয়ে পরিষ্কার ছবিতে সেটা একবারে লাগায়, তারপর দেখে টুলটা দাগটা ঠিক চিনতে পারছে কি না। যে দাগটা তারা নিজেরাই লাগাল, সেটাই উত্তর চাবি হয়ে যায়।
নতুন ছবি বানানোর সময় আবার শুরু হয় এলোমেলো দাগ থেকে। ছোট ছোট করে দাগ কমাতে কমাতে আগে বড় অবয়বটা বোঝা যায়, পরে ধার, শেষে কাপড়ের ভাঁজ বা চুলের খুঁটিনাটি। ঠিক যেমন রিস্টোরে আগে দৃশ্যটা ধরা পড়ে, তারপর ডিটেল আসে।
একবারে নিখুঁত আঁচড় মারার বদলে তারা বারবার ঠিক দাগটা চিনে তুলে ফেলে, তাই ছবিটা ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্য হয়। আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, এক সোয়াইপের জাদু নয়, অনেক ছোট ঠিকঠাক কাজ মিলেই পরিষ্কার মুখটা দাঁড়ায়।