মঞ্চের টেপের ভেতরেই কেন একটু অনিশ্চয়তা দরকার
ছোট থিয়েটারের ব্যাকস্টেজে অভিনেতা মেঝের টেপে ঘেরা দাগে হাঁটছে। একই দৃশ্য তিনভাবে ঠিকঠাক চলে: শান্ত, তীক্ষ্ণ, বা চাপা হাসির মতো। পরিচালক একটাই “সেরা” চায় না। পরিচালক চায় কয়েকটা ভালো ভঙ্গি হাতে থাকুক, কারণ সঙ্গী অভিনেতা কিউ মিস করতে পারে।
অভিনেতা যদি শুধু একবারের সেরা ভঙ্গিটাই বারবার করে, সমস্যা শুরু হয়। দর্শকের মুড বদলালেই বা সঙ্গী একটু দেরি করলেই দৃশ্য ভেঙে পড়ে। রিহার্সালের ছোট বদল, যেমন সময় বা নির্দেশ, হঠাৎ করে অভিনয় খারাপ করে দিতে পারে।
পরিচালক এবার স্কোর দেয় দুইভাবে। এক অংশে দেখে দৃশ্য কতটা জমল। আরেক অংশে বাড়তি নম্বর দেয় নমনীয় থাকলে, মানে সব সময় এক ভঙ্গিতে আটকে না থাকলে। এই “এলোমেলো রাখার” নাম এনট্রপি, সহজ করে বললে ইচ্ছে করে একটু বৈচিত্র্য রাখা।
ম্যাপটা পরিষ্কার: অভিনেতার সম্ভাব্য সংলাপ বলার ধরন মানে সম্ভাব্য পছন্দ। পরিচালকের স্কোর মানে পুরস্কার। এনট্রপি বোনাস মানে কয়েকটা কাছাকাছি ভালো পছন্দ খোলা রাখা। ছোট কথা: শুধু ঠিক ফল নয়, নিয়ন্ত্রিত বৈচিত্র্যও শেখাকে শক্ত করে।
রিহার্সাল লুপে চলে। প্রতিবারের পর ছোট ভিডিও ক্লিপ জমা থাকে, নোটও থাকে। পরে অভিনেতা শুধু শেষবার নয়, আগের অনেক ক্লিপ দেখে প্র্যাকটিস করে, সময় বাঁচে। দুজন আলাদা মানুষ একই ক্লিপ দেখে বলে কোন ভঙ্গি কতটা ভালো; মত না মিললে বেশি সন্দেহপ্রবণ জনের কথাই ধরা হয়।
পরেরবার কীভাবে খেলবে, পরিচালক ভালো রেটিং পাওয়া ভঙ্গিগুলোর দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু একটায় বেঁধে ফেলে না। ভালো ভঙ্গি বেশি করে আসে, গ্যারান্টি নয়। আর টেপের দাগের বাইরে যাওয়া যাবে না, তাই বড় পা ফেলার ভাবনাকে পরে টেপের ভেতর মসৃণ করে ছোট করা হয়। বৈচিত্র্য বেশি হলে ছড়ায়, কম হলে কাঠের মতো শক্ত হয়।
শেষমেশ অভিনেতার হাতে কয়েকটা শক্ত ভঙ্গি থাকে, তাই কিউ মিস হলেও জমে যায়, থেমে যায় না। পুরনো ক্লিপ থেকে শিখে শিখে গতি বাড়ে, আর ভাগ্যের ছোট ওঠানামায় অভিনয় দুলে না। মজার ব্যাপারটা হলো, ভরসার পথটা একদম নিশ্চিত হয়ে যাওয়া নয়। ইচ্ছে করে রাখা ছোট, শৃঙ্খলিত অনিশ্চয়তা।