বেশি গিয়ার দিলেই সাইকেল ভালো চলে না কেন
গ্যারাজে সাইকেলের চেইনে হাত রেখে আমি ভাবছিলাম, গিয়ার বাড়ালেই তো পাহাড়ে উঠবে। কিন্তু মাটিতে চলতেই চেইন স্লিপ, হ্যান্ডেল কাঁপে। এই সাইকেল বানানোটা ঠিক ছবির ভেতর জিনিস চিনতে শেখানো যন্ত্রে একটার পর একটা স্তর বসানোর মতো।
টেবিলের ওপর দেখে বুঝলাম সমস্যা অলসতা না, সাজগোজও না। গিয়ার যত বাড়ে, চেইনের পথ তত লম্বা হয়, বেশি জায়গায় ঘষে, ছোট ভুল জমে বড় হয়। ছবিচেনা যন্ত্রেও স্তর বেশি হলে, শেখাতে গিয়ে ভুল উল্টো বাড়তে পারে, শুধু ঠিকমতো বসে না।
আমি নিয়ম বদলালাম। নতুন গিয়ার অংশকে পুরো চালনা নতুন করে বানাতে বললাম না; বললাম, আগে যা চলছিল, তার ওপর শুধু ছোট ঠিকঠাকটা দাও। দরকার না হলে চুপচাপ থাকলেও চলবে। ছবিচেনা যন্ত্রেও নতুন ভাবনা এটাই, প্রতিটা অংশ শুধু সামান্য বদল শেখে, শেষে আগেরটাই আবার যোগ হয়ে যায়।
সাইকেলে আমি চেইনের জন্য একটা সহজ পাশপথ রাখলাম, যাতে পুরনো ড্রাইভলাইনটা সব সময় খোলা থাকে, আর নতুন গিয়ারটা পাশে থেকে একটু ঠেলে উন্নতি করে। যন্ত্রেও এমন পাশপথ ইনপুটকে ঘুরিয়ে এনে শেষে মিশিয়ে দেয়। তাই স্তর বাড়ালেও শেখা খারাপ হয় না, দরকারে আগের মতোই চলতে পারে, তারপর ধীরে ধীরে ভালো হয়। ছোট কথা, নিরাপদ পাশপথ থাকলে নতুন অংশকে সবকিছু টানতে হয় না।
কখনও চাকা বা চেইনের মাপ বদলালে পাশপথটা ঠিকমতো মেলে না। তখন আমি পাতলা স্পেসার দিই, বা ছোট একটা মিলিয়ে দেওয়া গিয়ার বসাই, শুধু মাপ বদলানোর সময়। যন্ত্রেও ভেতরের মাপ বদলালে এমন মিলিয়ে দেওয়ার ছোট কৌশল লাগে, কিন্তু পাশপথটা যতটা সম্ভব সোজাই রাখা হয়।
এই ছোট ঠিকঠাকের নিয়মে আমি অনেক অংশ যোগ করেও সাইকেল টিউন করতে পারলাম। ভারী না করতে মাঝখানে পাতলা অংশ, তারপর মূল গিয়ার, তারপর আবার পাতলা অংশ দিলাম। যন্ত্রেও এমন গুছানো অংশ কাজ কমিয়ে আবার ফিরিয়ে দেয়, তাই গভীর করলেও খরচ বাড়ে না। তবু ছোট কাজ হলে কখনও যন্ত্রটা খুঁটিনাটি বেশি আঁকড়ে ধরে নতুন ছবিতে কম ঠিক হতে পারে।
পরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঘুরে দেখি সাইকেলটা লাইন ধরে রাখে, কারণ প্রতিটা অংশ ছোট ছোট স্থির ঠিকঠাক দেয়, একসাথে যুদ্ধ করে না। ছবির ভেতর জিনিস চিনে নাম লেখা, আর ছবির কোথায় আছে সেটা খুঁজে দেখাতেও এই পাশপথওয়ালা গঠন কাজে লাগে। আগে যেখানে বেশি অংশ মানেই ঝামেলা ছিল, এখন গভীর করেও শেখা ভেঙে পড়ে না, তাই অনেক যন্ত্রেই এই কৌশল ঢুকে গেছে।