একটা পিং, একটা ঝাপসা দিক, আর আকাশের এক অদ্ভুত মিল
সমুদ্রতীরের ছোট উদ্ধার কক্ষে রাতটা চুপচাপ। হঠাৎ স্ক্রিনে একটা টিং শব্দ, আর মানচিত্রে একটা দাগ। দাগটা ঠিক বিন্দু না, কম্পাসের কাঁটার মতো ঝাপসা একটা দিক দেখায়। আকাশেও এমনই এক পিং ধরা পড়ে, বরফের ভেতর দিয়ে ছুটে আসা এক নিউট্রিনো।
পিং শোনা সহজ। ঝামেলা হলো, এটা আসল বিপদে পড়া নৌকা, নাকি অদ্ভুত প্রতিধ্বনি, নাকি নিছক গোলমাল। নিউট্রিনোর বেলাতেও তাই। বরফে সোজা দাগের মতো একটা চিহ্ন দেখলেই উত্তেজনা নয়, পাশে আর কী আছে সেটা দেখতে হয়।
সমন্বয়কারী খবর পাঠালেন সব দিকের পাহারাদারকে। জাহাজ, উপকূলের নজরদারি, রেডিও, আকাশে টহল, সবাই একই জায়গা দেখে, কিন্তু ভিন্ন চোখে। আকাশে ঠিক তাই হলো। নানা ধরনের টেলিস্কোপ একই অংশে তাকাল, আর সেখানে TXS 0506+056 নামের এক খুব সক্রিয় জেট-ওয়ালা গ্যালাক্সি সেই ঝাপসা দিকের ভেতরেই বসে ছিল।
কয়েক দিন পরে এক পাহারাদার বলল, এমন ঝলক আগে এই নৌকার দিক থেকে নিশ্চিত হয়নি। খুব শক্তিশালী, চোখে ধরা কঠিন, বিশেষ চশমা ছাড়া দেখা যায় না এমন ঝলক। আকাশের ভাষায়, TXS 0506+056 থেকে খুব উচ্চ শক্তির গামা রশ্মি ধরা পড়ল, আর উজ্জ্বলতা দিনভেদে বদলাল।
তারপর লগবুকে আরও খুঁটিনাটি জমল। এক্স-রেতে উজ্জ্বলতা ওঠানামা করল, সাধারণ আলোও আগের কয়েক বছরের চেয়ে বেশি লাগল, আলোটা একদিকে সাজানো ছিল বলে জেটের ইশারা মিলল, রেডিওতে ধীরে ধীরে বাড়ার ছাপ। মানে, একই দিক থেকে একসাথে অনেক সিগন্যাল বদলালে, একটামাত্র পিং আর কাকতাল লাগে না।
তবু প্রশ্নটা কঠিন। এমন পিং কি হঠাৎ করেই এমন ঝলমলে নৌকার সঙ্গে মিলে যেতে পারে? তারা পুরোনো অনেক পিং আবার মিলিয়ে দেখল, নানা নিয়মে। সবসময় উজ্জ্বল নৌকা, হঠাৎ উজ্জ্বল হওয়া নৌকা, আর ওই বিশেষ চশমায় উজ্জ্বল নৌকা। হিসাবটা বলল, এই মিলটা সাধারণ কপাল নয়, সুযোগটা খুব কম।
সমন্বয়কারী তবু ঘোষণা দিল না যে পরের সব পিং এমন নৌকা থেকেই আসবে। এক পিং দিয়ে পুরো সমুদ্র বোঝা যায় না। কিন্তু এবার একটা কাজের ছক দাঁড়াল। পিং ধরো, দ্রুত সব রকম আলো দিয়ে একই দিক দেখো, তারপর কাকতাল কি না সেটা ঠান্ডা মাথায় যাচাই করো। আগে শুধু ঝাপসা আন্দাজ ছিল, এবার মিলটা সত্যি করে দেখা গেল।