বিশাল বাগানের ছোট্ট টেবিল
কল্পনা করুন একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানীর কথা। তিনি বিশাল এক গ্রিনহাউসে হাজার হাজার বিরল গাছ নিয়ে গবেষণা করছেন। সমস্যা হলো, তার কাজের টেবিলটা খুব ছোট, সেখানে মাত্র কয়েকটা টব ধরে। আর বাকি সব গাছ রাখা আছে অনেক দূরে, মাটির নিচের এক ঠান্ডা ঘরে।
সমস্যাটা তার দক্ষতায় নয়, সমস্যা হলো দূরত্বে। একটা গাছের সাথে আরেকটার মিল দেখতে তাকে বারবার নিচে ছুটতে হয়। একটা টব আনেন, পরীক্ষা করেন, আবার রেখে এসে পরেরটা আনেন। দেখা গেল, তিনি গবেষণার চেয়ে করিডোরে দৌড়াদৌড়ি করতেই দিন পার করে দিচ্ছেন।
এই দৌড়াদৌড়ি থামাতে তিনি কাজের নিয়মটাই বদলে ফেললেন। এখন তিনি এলোমেলোভাবে একটা-দুটো টব আনেন না। বরং একবারে এক সেট গাছ নিয়ে আসেন যা তার টেবিলে ঠিকঠাক এঁটে যায়। সেই দলের সবার সাথে সবার তুলনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর নড়েন না।
তিনি তার হিসাব রাখার পদ্ধতিও পাল্টে ফেললেন। আগে প্রতিটা ফল মোটা খাতায় লিখে রাখতেন, যা বয়ে বেড়ানো ছিল কষ্টের। এখন তিনি আর লেখেন না। দরকার হলে চট করে মনে মনে হিসাবটা আবার করে নেন। ভারী খাতা খোলার চেয়ে মাথা খাটিয়ে অঙ্কটা আবার করা অনেক দ্রুত হয়।
দৌড়াদৌড়ি কমে যাওয়ায় তার কাজের গতি অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেল। এখন তিনি মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা বিশাল ইকোসিস্টেম নিয়ে কাজ করতে পারেন। আগে যা তার হাঁটার গতির কারণে অসম্ভব মনে হতো, এখন সেই জটিল প্যাটার্নগুলোও তার চোখে ধরা পড়ছে।