একটা তারার আলোতে লুকোনো সাতটা ছন্দ
ভোরের আগে কমিউনিটি হলটা ঠান্ডা। আমি একটা চেয়ারে ছোট রেকর্ডার রেখে রেকর্ড চাপলাম। পেছন থেকে শুনলে সবটা একটাই গুলিয়ে যাওয়া ঠুকঠাক, কিন্তু আমার মনে হলো ভেতরে কয়েকটা আলাদা ছন্দ লুকিয়ে আছে। অনেকক্ষণ টানা শুনলে এক গণ্ডগোলও আলাদা আলাদা তাল হয়ে বেরোয়।
আগে আমি টুকরো টুকরো করে শুনতাম। দরজা খুললেই শব্দ বদলায়, বাইরে ট্রাক গেলে ঢেকে যায়, কারও কাশি উঠলে কাটে। আকাশ দেখার যন্ত্রেও এমন ফাঁক পড়ে, দিন-রাত আর মেঘে। তখন তারার আলো একটু কমার ঘটনাগুলো এমন লাগত, যেন একই বাজনাদার বারবার অনিয়ম করে ঢুকছে।
নতুন চালটা সহজ, কিন্তু কষ্টের। রেকর্ডারটা প্রায় থামানো ছাড়াই চলতে দিলাম, যেন পুরো মহড়াটাই ধরা পড়ে। আর এমনভাবে শুনলাম যাতে আলোটা বেশি সমান লাগে, ফলে ছোট ছোট কমে যাওয়ার দাগগুলো পরিষ্কার হয়। বাইরে থেকে আরও কিছু শোনা দিয়ে মিলিয়ে নিলাম, যেন ভুল না হয়।
টানা রেকর্ডে গুলিয়ে থাকা ঠুকঠাক ভেঙে গেল। মহাকাশের দিক থেকে একটানা তাকিয়ে তারা-আলো কমার অনেকগুলো পরিষ্কার মুহূর্ত ধরা পড়ল, মোট চৌত্রিশটা। সেখান থেকে চারটা নিয়মিত সময়সূচি আলাদা হলো, আর আগের দুটোর সঙ্গে মিলিয়ে নতুন গ্রহও যোগ হলো। তারপর একটা একলা, জোরালো কমে যাওয়া দেখা গেল, আর ওই সময়ে আর ফিরল না, যেন সপ্তম গ্রহটা একবার এসে সরে গেল।
এবার প্রতিটা ছন্দ মাপা যায়। আলো বেশি কমলে বোঝা যায় গ্রহটা বড়, যেন স্পটলাইটের সামনে বড় মানুষ দাঁড়ালে বেশি আলো ঢাকে। কমে থাকা যত লম্বা, গ্রহটা তত ধীরে পার হচ্ছে এমন ইঙ্গিত মেলে। এতে দেখা গেল কয়েকটা গ্রহ পৃথিবীর কাছাকাছি আকারের, আর কয়েকটা আরও ছোট, মঙ্গল আর পৃথিবীর মাঝামাঝি।
তবু সময় একদম পাকা নয়। কিছু কমে যাওয়া একটু আগে বা পরে আসে, কয়েক সেকেন্ড থেকে আধা ঘণ্টারও বেশি এদিক-ওদিক। ঠিক যেমন বাজনাদাররা একই গান বাজায়, কিন্তু একে অন্যকে টেনে একটু তাল সরায়। গ্রহগুলোও একে অন্যকে টানে, আর সেই টান দেখে ওজন আন্দাজ করা যায়, যদিও এখনও একাধিক সম্ভাবনা খোলা আছে।
মহড়া শেষে হলটা আর একটাই গুলিয়ে যাওয়া শব্দ নয়। আলাদা আলাদা করে অন্তত সাতটা অংশ শোনা যায়। আকাশের ওই তারাটার চারপাশে কিছু গ্রহ এমন দূরত্বে আছে যেখানে ঠিকঠাক বাতাস আর মেঘ থাকলে পানি তরল থাকতে পারে, আর কিছু সম্ভবত খুব গরম বা খুব ঠান্ডা। আগে চোখে পড়েনি, কারণ টানা শোনা ছিল না; এখন ছোট ছোট সময়-সরে যাওয়াও ধরা পড়ে, তাই গল্পটা অনেক বেশি পরিষ্কার লাগে।