মেলার টোকেন, আর ভবিষ্যৎকে ছোট করে দেখার ভুল
ভোরের আগে মেলার ম্যানেজার লোহার বাক্স খুলে টেবিলে টোকেন ঢেলে দিল। খাবারের দোকান, রাইড, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা সবখানেই এই টোকেন চলে। নতুন সপ্তাহ আসছে। সে ভাবছে, ছাউনি আর আলো বসাতে টোকেন বেশি ছাপাবে, নাকি টোকেন কম রেখেই চালাবে?
একজন সাবধানি বিনিয়োগকারী এসে জিজ্ঞেস করল, “এই ছাউনির টাকা কবে উঠবে?” তার অভ্যাস, আগামী বছরের লাভকে আজকের টাকার মতো ধরে না। ফলে ম্যানেজারের মাথায় আসে সস্তা, তাড়াতাড়ি জোড়া লাগানো কাজ। শক্ত বিদ্যুৎ লাইন, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, লোকজনকে শেখানো, পানির পয়েন্ট এসব পিছিয়ে যায়।
ম্যানেজার একটা সহজ হিসাব ধরল। মেলায় মোট কেনাবেচা দাঁড়ায়, কত টোকেন আছে গুণে প্রতিটা টোকেন দিনে কতবার হাত বদলায়। দুইটা কথা সে চোখে দেখেছে। অনেকেই টোকেন পকেটে রেখে দেয়, কেউ স্মৃতি হিসেবে রেখে দেয়, তাই টোকেন ধীরে চলে। আর এক দোকানে খরচ হলে সেটা অন্য দোকানেও খরচ টেনে আনে।
তখন সিদ্ধান্তটা বদলে গেল। টোকেন ছাপা ঠিক হবে, যদি ছাউনি-আলো মেলাকে এতটাই আরামদায়ক আর ভরসার করে যে মানুষ আর দোকানদাররা দীর্ঘদিন বেশি টোকেন হাতে রাখতে চায়, বেশি ব্যবহার করে। ব্যাপারটা হলো, “দ্রুত টাকা উঠবে?” না, “মেলার টান আর শৃঙ্খলা কি টেকসইভাবে বাড়বে?”
সে আরেকটা অস্বস্তিকর জিনিস দেখল। মেলা একভাবে নামলে খারাপ চক্রে যায়, কয়েকজন বেশি দাম হাঁকে, মান পড়ে, সবাই খারাপটাই ধরে নেয়। আবার আরেকভাবে চললে দাম ঠিক থাকে, মেরামত সময়মতো হয়, টোকেনের ওপর ভরসা থাকে। তাই সে নৌকা চালানোর মতো দুই গতিতে চালায়, দিনে ছোট ছোট ঠিকঠাক করা, আর মৌসুম ধরে বড় কেনাকাটা।
শেষ দিনে টোকেনগুলো ঋণের মতো লাগল না। মনে হলো, ভালোভাবে চলা মেলার একটা ভাগের দাবি, যেটার পেছনে আলো, জেনারেটর, পরিষ্কার জায়গা, মজুত মাল, শেখানো কর্মী আছে। আগে সে ভবিষ্যৎকে ছোট করত। এখন সে দেখে, টোকেনের দাম আসলে পুরো মেলার সুস্থ চলার সঙ্গে বাঁধা।