গোলকধাঁধা পেরোনোর সহজ মন্ত্র
পুরনো এক শহরের কথা ভাবুন, যার অলিগলি জট পাকানো সুতোর মতো। শহরের গেটে একজন পিওন দাঁড়িয়ে, তার হাতে একটা পার্সেল। তাকে এই গোলকধাঁধার গভীরে লুকিয়ে থাকা একটা নীল দরজায় পৌঁছাতে হবে। আমাদের কম্পিউটারগুলোকেও মাঝে মাঝে এমন কঠিন সমস্যার জট খুলতে হয়।
মুশকিল হলো, আমরা চাই পিওন যেন চোখের পলকে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। বড় রাস্তার বাড়ির জন্য এটা খাটে, কিন্তু ওই গুপ্ত দরজার খোঁজ কি আর অত সহজে মেলে? তখন তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পিওন আন্দাজে ঢিল মারে, আর ভুল পাড়ায় গিয়ে হাজির হয়।
তাই নিয়মে একটা বদল আনা হলো। এখন দৌড় দেওয়ার আগে পিওনকে জোরে জোরে পথের বর্ণনা দিতে হবে। সে বলে, "প্রথমে আমি বেকারির পাশ দিয়ে যাব, তারপর ঝর্ণার কাছ থেকে বাঁয়ে ঘুরব, শেষে দশ পা এগিয়ে নীল দরজাটা খুঁজে নেব।"
এভাবে ধাপে ধাপে পথ বলে নেওয়ায় কঠিন কাজটাও সহজ হয়ে যায়। এখন আর পুরো গোলকধাঁধা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না, শুধু পরের মোড়টা পার হলেই হলো। এভাবেই লজিকের জট খুলে সঠিক উত্তরটা আপনাআপনি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
তবে সাবধান, এই ফন্দিটা শুধু ঝানু পিওনদের জন্যই খাটে। নতুন বা কাঁচা পিওনরা এভাবে পথ বলতে গেলে গুলিয়ে ফেলে। তারা হয়তো আত্মবিশ্বাসের সাথে এমন কোনো মূর্তির কথা বলে বসে যা আসলে ওখানেই নেই, আর পথ হারিয়ে আরও দূরে চলে যায়।
কিন্তু ওস্তাদদের জন্য এই 'ভেঙে ভেঙে বলা'র অভ্যাসটাই জাদুর চাবিকাঠি। এটা প্রমাণ করে যে, কঠিন সমস্যার সমাধান শুধু গতি দিয়ে হয় না। বরং প্রশ্ন আর উত্তরের মাঝখানের পথটা ধীরস্থিরে ম্যাপ করে নেওয়াই আসল বুদ্ধি।