রেলের ছোট ফাঁক থেকে ডিএনএর অদ্ভুত মেরামত
ভোরের আলো উঠতেই রেলইয়ার্ডে একটা ছোট লোহার অংশে রং দিয়ে দাগ টানা। পাশে নতুন রেল, দুই মাথা আগে থেকেই মেপে কাটা। কাজটা খুব নাজুক, ওই টুকুই খুলতে হবে, পাশেরটা নয়, না হলে পুরো লাইন বেঁকে যাবে।
কিছু জীবাণুর ভেতর ডিএনএ মেরামতও এমনই। ডিএনএ হলো রেললাইন, ছোট পথনির্দেশ হলো রঙের দাগ, আর মিলিয়ে কাটা নতুন টুকরো হলো বদলি রেল। আগে ধরে নেওয়া হতো, পরিষ্কার বদল আনতে একসঙ্গে বড় দল চাই। এবার দেখা গেল, ঠিক কাজ শুরু করাতে এক ছোট কর্মীই যথেষ্ট হতে পারে।
মাটির এক জীবাণু, S. virginiae, দেখে মনে হলো সরঞ্জাম কমিয়েও কাজ চলছে। তার ছোট কর্মী SviCas3, সঙ্গে অস্থায়ী ডিএনএর বৃত্তে ঠিকানা আর বদলি টুকরো বয়ে আনা হলো। তাতে পেনিসিলিন সামলানোর সঙ্গে জড়ানো সাতটা জিনের অংশ কাটা বা বদলানো গেল, এমনকি আগে বদলানো কোষেও আরেক দফা কাজ হলো।
চমকটা বড় হলো যখন এই জিনিস E. coli-তে নেওয়া হলো। সঙ্গে আনা বাড়তি অংশ একে একে বাদ পড়ল। শেষে সাধারণ যে সঙ্গীদের দরকার বলে ধরা হতো, তাদের ছাড়াও SviCas3 একাই কাটা আর জোড়া লাগানোতে সায় দিল, যদি ঠিকানা আর মিলিয়ে বানানো বদলি টুকরো থাকে। যেন বাইরের এক কর্মী এসে ঘরের মিস্ত্রিদেরই কাজে লাগিয়ে দিল।
একই ছোট সেটআপ Corynebacterium-এও পৌঁছাল, যেখানে পরিচিত আরেক কাটার যন্ত্রে কোষ টিকে না-ও থাকতে পারে। এখানেও বদল হলো, যদিও গতি কম। কিছু কলোনিতে পুরোনো আর নতুন, দুই রকম চিহ্নই রইল। তবু আলাদা শেষভাগ আর নানা মাপের বদলি টুকরো সামলানো গেল, আর দেখা কয়েকটা পাশের জায়গায় বাড়তি বদল ধরা পড়েনি।
সব প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। SviCas3 কীভাবে পুরো দল ছাড়া কাজ শুরু করায়, সেটা খোলা আছে, আর নিরাপত্তা দেখা হয়েছে শুধু কিছু বেছে নেওয়া জায়গায়। তবু ফারাকটা চোখে লাগে। যে কাজকে আগে অনেকজনের রেলদল মনে হতো, কিছু জীবাণুতে সেখানে স্পষ্ট ঠিকানা, মাপমতো বদলি টুকরো, আর এক ছোট কর্মীই দরজা খুলে দিচ্ছে।