মঞ্চের কর্মী থেকে যন্ত্রের চোখ
খোলা কাজের আলোয় ভরা থিয়েটারের পেছনে নতুন এক কর্মী ঢুকল। আধখোলা ড্রয়ার, চেয়ারে ঝোলা তোয়ালে, দাগ কাটা জায়গায় মগ, আর বাক্সের অপেক্ষায় মুখোশ। এই শো সে আগে করেনি, তবু অন্য দলের মাথা-সমান উচ্চতার অনেক ভিডিও দেখে কয়েকটা দেখানো উদাহরণেই বুঝে গেল কী সরাতে হবে, কোথায় রাখতে হবে, আর কী ছোঁয়া যাবে না।
যন্ত্রের অবস্থা বেশির ভাগ সময় এমন নয়। অনেককে প্রতিটা কাজ নতুন করে শিখতে হয়। কারও হাতে শুধু জিনিসের ছবি থাকে, কিন্তু হাত বাড়ানো, ড্রয়ার খোলা, রাখা, ভাঁজ করা, এই চলার ধারাটা থাকে না। মঞ্চকর্মীকে যদি শুধু প্রপের ছবি দেখাও, অন্ধকার ভিড়ে সে গুলিয়ে ফেলবেই।
এবার কৌশলটা ছিল অন্যরকম। মানুষের চোখে দেখা অনেক ভিডিও, সঙ্গে ছোট ছোট কথার ইশারা, দিয়ে যন্ত্রের দেখার অংশকে আগে থেকেই গড়া হলো। কাছাকাছি মুহূর্তকে ধরা হলো একই কাজের ধারাবাহিক অংশ, দূরের মুহূর্তকে কম মিল। কথার ইশারা যন্ত্রকে দেয়াল নয়, বদলানো জিনিসে তাকাতে শিখাল। মানে, ভিডিও হলো মঞ্চের রিহার্সাল, কথাগুলো প্রপের নোট, আর ভেতরের ছোট সারাংশ হলো কর্মীর কিউ-শিট।
তারপর নতুন কাজ এলেও সেই দেখার অংশ আর ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়নি। সেটাকে যেমন ছিল তেমন রাখা হলো, শুধু অল্প কিছু দেখানো উদাহরণ আর নিজের জোড়াগুলোর অবস্থান ধরে যন্ত্রকে নড়াচড়া শেখানো হলো। যেন মঞ্চকর্মীর চোখ একই রইল, বদলাল শুধু আজ রাতের সংকেতের তালিকা। অচেনা অনেক অনুশীলন-জগতে এই পথ পুরোনো উপায়ের চেয়ে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল।
কোন জিনিসটা সবচেয়ে দরকারি, সেটা খুলে দেখলে আরও পরিষ্কার হয়। কথার ইশারা সরিয়ে দিলে নামল সবচেয়ে বেশি। যেন কর্মী দ্রুত নড়তে পারে, কিন্তু কোন মগটা ধরতে হবে বা কোন ড্রয়ারটা বন্ধ করতে হবে, সেটাই আর ঠিকমতো বুঝতে পারছে না। শুধু বেশি ভিডিও দেখালেই লাভ হয়নি, ভিডিওকে সময়, মানে আর ছোট সারাংশে গুছিয়ে দেওয়াতেই লাভ।
লাভটা শুধু অনুশীলনের ঘরেই থামেনি। এলোমেলো ঘর-ধরনের জায়গায়, খুব অল্প দেখানো উদাহরণ নিয়েই এই মানুষ-দেখা চোখওয়ালা যন্ত্র ড্রয়ার বন্ধ করা, জিনিস ঠিক জায়গায় রাখা, মগ ঠেলা, তোয়ালে ভাঁজ করা, এসব কাজে পুরোনো চোখের যন্ত্রের চেয়ে ভালো করল। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে ঠিক জিনিসটা খুঁজে নিতে। নতুন ব্যাপারটা পুরো শেখার পথ বদলানো নয়, সাধারণ মানুষের ভিডিও থেকে বারবার কাজে লাগানো যায় এমন চোখ বানানো।
শেষে ছবিটা বেশ সহজ হয়ে আসে। আগে যন্ত্র যেন প্রতি শোতে নতুন কর্মী, সবকিছু আবার শিখছে। এখন তার কাছে আগে থেকে তৈরি চোখ আছে, তাই অল্প দেখালেই কাজ ধরতে পারে। পার্থক্যটা সেখানেই, হাত শেখার আগে চোখকে ঠিক জিনিস চিনতে শেখানো।