নিজে থেকেই দেখা শেখার গল্প
ভাবুন একটা শান্ত আর্ট স্কুল। সেখানে একজন নতুন ছাত্র বসেছে আঁকিবুঁকি ভরা একটা দৃশ্য আঁকতে। কেউ তাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে না কোনটা ফুলদানি আর কোনটা বিড়াল। সে শুধু পাশের এক সিনিয়র শিল্পীর আঁকা দেখে দেখে শিখছে।
শেখার কায়দাটা একটু অদ্ভুত। ছাত্রটি হয়তো ছবির একটা ছোট্ট কোণা দেখছে, আর সিনিয়র দেখছে অন্য পাশ থেকে। ছাত্রের কাজ হলো সেই ছোট্ট অংশ দেখে আন্দাজ করা যে সিনিয়রের ছবিতে কী আছে, যাতে দুজনেই শেষমেশ একই জিনিস আঁকতে পারে।
কিন্তু এখানে একটা বড় সমস্যা হতে পারে। দুজনেই যদি চালাকি করে পুরো ক্যানভাস কালো রঙে লেপে দেয়, তবে তো ছবি দুটো হুবহু মিলে যাবে! কম্পিউটারের ভাষায় একে বলে 'ধসে পড়া'। এতে মিললেও আসলে শেখা কিছুই হয় না।
এই ফাঁকিবাজি রুখতে কড়া নিয়ম করা হলো। সিনিয়রের আঁকা অস্পষ্ট বা গড়পড়তা হলে চলবে না, হতে হবে একদম স্পষ্ট ও ধারালো। এতে বাধ্য হয়ে ছাত্রকেও নিখুঁত আঁকতে হয়, আবছা কিছু চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
আসল মজাটা হলো, ওই 'সিনিয়র' আসলে অন্য কোনো মানুষ নন। ওটা ছাত্রেরই আঁকা আগের ছবিগুলোর একটা ধীরস্থির সংস্করণ। অর্থাৎ, ছাত্রটি নিজেরই অতীতের কাজের একটা পরিপক্ব রূপ দেখে নিজেকে শুধরে নিচ্ছে।
নাম না জেনেও শুধু আকার মেলানোর এই চেষ্টায় এক জাদুকরী ব্যাপার ঘটে। ছাত্রটি নিজে থেকেই বুঝতে শেখে কোনটা মূল বস্তু আর কোনটা পেছনের দৃশ্য। কোনো নাম না জানলেও সে বস্তুর সীমানা নিখুঁতভাবে আঁকতে শুরু করে।
এভাবেই কম্পিউটার এখন মানুষের মতো দেখতে শেখে। আগে থেকে বাক্স এঁকে বুঝিয়ে দিতে হয় না। নিজের ভুল শুধরে সে নিজেই ছবির ভেতরের অর্থ আর আকার আলাদা করতে পারে।