পুরোনো থিয়েটারে আলো বদলাতে বদলাতে এক নতুন বুদ্ধি
পুরোনো থিয়েটারের পেছনে দুজন আলো-অপারেটর আলাদা বোর্ডে বসে। মঞ্চে প্রতি মুহূর্তে দৃশ্য বদলায়, আর ওদের ঠিক সময়ে ঠিক সুইচ চাপতে হয়। ছবিতে কী আছে চিনে নাম বলানোও এমনই: বোর্ড দুটো দুইটা গ্রাফিক্স কার্ড, কিউ-শিট হলো জিনিসের নাম। ছোট ছোট সিদ্ধান্ত ঠিকমতো জমলেই কিউ ঠিক আসে।
আগে ওদের ভরসা ছিল মোটা একটা কিউ-বই। কোন রঙ, কোন দাগ, কোন ধার দেখলে কী করতে হবে, সব লেখা। চলত, কিন্তু ছবির ভাণ্ডার ফুলে উঠল, জিনিসের ধরনও অনেক। আলো, কোণ, পেছনের দৃশ্য বদলালেই ওই বই ভুল করতে লাগল।
তারপর দলটা কিউ-বই বাদ দিল। তারা বানাল কিউ দেওয়ার লম্বা চেইন। শুরুতে কিছু স্টেশন শুধু রেখা আর রঙের টুকরো দেখে। পরেরগুলো সেগুলো জুড়ে চাকা, লোম, মুখের মতো আকার ধরতে শেখে, শেষে পুরো জিনিস। মাঝখানের ছোট স্টেশনটা তুলে দিলেই পরে আর ঠিকমতো ধরতে পারে না, সিঁড়ির ধাপ হারায়।
কিন্তু গতি আটকে গেল। পুরোনো সুইচগুলো মাঝখানে গোঁজামিল দিত, হাত কেঁপে দেরি হতো। তারা লাগাল পরিষ্কার সুইচ: সিগনাল জোর হলে অন, না হলে একদম অফ। কম দ্বিধা, কম টানাটানি। এই সোজা অন-অফ চেইনটাকে অনেক দ্রুত শিখতে দিল।
তারপর আকারের ঝামেলা। এক বোর্ডে সব তার আর কিউ ধরছিল না। তাই কাজ ভাগ হলো দুই বোর্ডে। বেশির ভাগ সময় দুইজন নিজের অংশ চালায়, ঠিক করা কয়েকটা জায়গায় মিলিয়ে নেয়। কম কথা বলেই কাজ চলে, তবু মিলিয়ে ফলটা এক বোর্ডের ছোট সেটআপের চেয়ে ভালো, সময়ও বাড়ে না।
রিহার্সালে তারা নিজেকে ঠকাতে দিল না। একই দৃশ্যকে একটু এদিক-ওদিক থেকে দেখে, কখনও উল্টো করে, কখনও আলো-রঙ সামান্য বদলে দেখে। ভিড়ের জায়গায় কিছু কিউ-চ্যানেলকে মাঝে মাঝে বসিয়ে রাখে, যাতে কয়েকটা কিউ মিলে চিটিং না করে। আর একটার শব্দ বেশি হলে পাশেরটা চাপা না পড়ে, তাই হালকা করে ভারসাম্যও রাখে।
কয়েকদিন টানা রিহার্সালের পর দুই বোর্ডের এই লম্বা কিউ-চেইন পুরোনো কিউ-বই দলকে অনেকটা পিছনে ফেলে দিল। পরে একই রকম কয়েকটা চেইন একসাথে ধরলে ফল আরও শক্ত হলো। তখন বোঝা গেল, রহস্য কোনো লুকোনো কৌশল না: অনেক স্তর, দ্রুত অন-অফ, কাজ ভাগ, আর মুখস্থ আটকানোর শৃঙ্খলা। আজ ফোনে ছবি খোঁজা বা গুছিয়ে রাখা যে এত স্বাভাবিক লাগে, তার পেছনে এই বদলটা আছে।