অন্ধকারে পথ দেখাল একটি নীল আলো
কুয়াশায় ঢাকা চওড়া নদী। রাতের উৎসবে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার কাগজের নৌকো। প্রতিটি নৌকোর গড়ন ভীষণ জটিল, অনেকগুলো স্তর দিয়ে তৈরি। আয়োজকরা চাইছিলেন এই নৌকোগুলোর ভেসে চলার নিরাপদ পথ আর সীমানার একটা ম্যাপ বানাতে। কিন্তু কুয়াশার ভেতর এত জটিল আকারের দিকে তাকালে পুরো ব্যাপারটা একেবারে গুলিয়ে যায়।
নিরাপদ জলের সীমানা কোথায় শেষ আর বিপদের শুরু কোথায়, ম্যাপ ছাড়া সেটা বোঝা অসম্ভব। এর আগে তারা অন্ধকারে নৌকোগুলোর পুরো আকারটা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কুয়াশার কারণে সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। ফলে উৎসবের আসল সীমানাটা ওই জটিল নকশার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল।
কিন্তু তারপর একটা দারুণ বুদ্ধি বের হলো। নকশা যেমনই হোক, প্রতিটি নৌকো ঠিক সাতাশটি ছোট কাঠের কাঠি দিয়ে তৈরি। আয়োজকরা পুরো নৌকোর দিকে তাকানো বন্ধ করে দিলেন। তার বদলে প্রতিটি নৌকোর নির্দিষ্ট একটা কাঠিতে উজ্জ্বল নীল রঙের আলো জ্বেলে দিলেন। নিমেষেই জটিল আকারগুলো অন্ধকারে মিলিয়ে গেল, শুধু নীল আলোর স্পষ্ট একটা ধারা ফুটে উঠল।
শুধু এই নীল আলোর বিন্দুগুলোর দিকে নজর রেখেই জলের ভেতরের স্রোত আর সীমানা পরিষ্কার বোঝা গেল। আয়োজকরা জানতেন ওই একটা কাঠি নৌকোর বাকি অংশের সাথে কীভাবে যুক্ত। তাই আলোর ওই সহজ নকশাটা দেখেই তারা অংকের সাহায্যে পুরো নৌকোগুলোর আসল সীমানা নিখুঁতভাবে বের করে ফেললেন।
এই নতুন ম্যাপ থেকে উৎসবের একদম সঠিক সীমানাটা বেরিয়ে এল। ব্যাপারটা যাচাই করতে তারা ম্যাপের একটা নির্দিষ্ট কোণ মেপে দেখলেন। তখন বোঝা গেল, আগে তারা যে ম্যাপটা ব্যবহার করতেন সেটা শুধু ভুল নয়, তার আকারটাই ছিল একদম আলাদা। কেবল একটা আলোর বিন্দুর ওপর জোর দিয়েই বিশাল এক অদৃশ্য সীমানাকে তারা চোখের সামনে নিয়ে এলেন।