বাতাসের অদৃশ্য নদীতে প্লেন ওড়ানোর গল্প
বিশাল এক ল্যাবরেটরি। সেখানে একটা হাই-টেক কাগজের প্লেন ওড়ানোর চেষ্টা চলছে। চ্যালেঞ্জটা হলো, প্লেনটাকে না ভেঙে ঠিকঠাক গন্তব্যে পৌঁছানো। ভাবুন তো, বাতাসের মধ্যে ঝোলানো ছোট ছোট রিংয়ের ভেতর দিয়ে প্লেনটাকে নিখুঁতভাবে পার করা কতটা কঠিন।
আগে এভাবেই কাজটা করা হতো। প্লেনটাকে একটার পর একটা লোহার রিংয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু পথটা একটু বাঁকা হলেই বিপদ। তখন হাজারটা রিং নতুন করে সাজাতে হতো, যা বেশ ঝামেলার আর কঠিন কাজ।
তাই বিজ্ঞানীরা রিংগুলো সব সরিয়ে ফেললেন। তার বদলে ফ্যান চালিয়ে বাতাসের একটা অদৃশ্য নদী তৈরি করলেন। এখন প্লেনটাকে আর নির্দিষ্ট বিন্দু ছুঁতে হয় না, সে শুধু বাতাসের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়।
এই বাতাসের নদীটা বেশ বুদ্ধিমান। যেখানে মোড় নেওয়া দরকার, সেখানে বাতাসই প্লেনটাকে ঘুরিয়ে দেয়। আর পথ সোজা হলে সোজা নিয়ে যায়। প্লেনটা শুধু স্রোতের সাথে ভেসে চলে, ঠিক যেমন নদীতে নৌকা ভাসে।
কিন্তু ওড়ার সময় ভুল হলে কী হবে? সাধারণত এর জন্য দামী ক্যামেরা দিয়ে পুরো পথের ভিডিও করতে হয়। এতে কম্পিউটারের মেমোরি দ্রুত ভরে যায় আর পুরো ব্যবস্থাটা ধীর হয়ে পড়ে।
নতুন পদ্ধতিতে এসবের দরকার নেই। প্লেনটা কোথায় নামল, শুধু সেটা দেখেই বিজ্ঞানীরা অংক কষে বের করে ফেলেন বাতাসটা কেমন ছিল। পেছনের পথের কোনো রেকর্ড রাখার প্রয়োজনই পড়ে না।
আগে যেমন ধাপে ধাপে এগোতে হতো, এখন আর তা নেই। এটা যেন সত্যিকারের নদীর মতো বয়ে চলা। যেকোনো মুহূর্তে প্লেনটার অবস্থান বোঝা যায়, আর ওড়াও হয় একদম মাখনের মতো মসৃণ।