একটা পোস্টার, আর তার ভেতরের লুকোনো খোঁচা
কমিউনিটি সেন্টারের করিডরে আমি বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে। পোস্টারে হাসিমুখ ছবি, পাশে বড় অক্ষরে মিষ্টি একটা লাইন। তবু দুটো মিলে কেমন কাঁটা লাগে। হাতে মার্কার, নোটে লেখা দুই ঘর: রাখব, না নামাব?
ঝামেলাটা এখানেই। খারাপ কথা অনেক সময় বাক্যে একা থাকে না, ছবিতেও একা থাকে না। দুটো জোড়া লাগলে, আর লোকের মাথায় থাকা চেনা ইশারা আর গল্পের সঙ্গে মিলে তবেই আঘাতটা বোঝা যায়। শুধু শব্দ বা শুধু ছবি ধরলে অনেক কিছুই চোখ এড়িয়ে যায়।
কোঅর্ডিনেটর আপা এসে পাশে দাঁড়ালেন। তিনি শুধু বললেন না রাখব কি নামাব। ছোট স্টিকি নোটে লিখলেন, ছবির কোন খুঁটিটা দরকার, লাইনের কোন কথাটা দরকার, আর কোন সাধারণ জানা কথা দুটোকে জুড়ে দেয়। সিদ্ধান্তটা আগে ঠিক থাকায় ব্যাখ্যাটা এলোমেলো হলো না। ব্যাপারটা হলো, আপা যেন একজন বুদ্ধিমান চ্যাট-সিস্টেম, আর ওই নোটটা ছোট্ট কারণের সেতু। কেন শেখালে শুধু উত্তর শেখানোর চেয়ে কাজ বেশি হয়।
তারপর আমার অনুশীলন দুই দফায়। আগে আমি অনেক পোস্টারে ওই ছোট ব্যাখ্যাই লিখি, ছবি আর লেখা একসঙ্গে দেখে। কোণায় থাকা ছোট চিহ্নটা দেখলেই বুঝি, মিষ্টি লাইনটা কীভাবে খোঁচা হয়ে যায়। পরে আলাদা দফায় শুধু রাখব-নামাব সিদ্ধান্তে হাত পাকাই। একসঙ্গে দুটো করতে গেলে একটার সঙ্গে আরেকটা গুলিয়ে যেত।
এইভাবে শেখানো ছোট একটা শনাক্তকারীও নাকি অনেক ধরনের আসল মিমে আগের শক্ত সিস্টেমগুলোর চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত দেয়। বিশেষ করে যেখানে ক্যাপশন আর ছবি একে অন্যকে ভুল পথে টানে, আর শুধু ছবিটা কথায় বলে দিলেই মানে বদলে যায়। লেখা আর ছবির সূত্র সেলাই করলেই সেখানে লাভটা বেশি।
তবু করিডরে কিছু পোস্টার আমাকে থামিয়ে দেয়। ছবির ইউনিফর্ম, হাতের ভঙ্গি, বা কোনো পরিচিত মুখ না চিনলে ব্যাখ্যাটা ভুল দিকে যেতে পারে, সিদ্ধান্তও ভুল হয়। ওই ছোট শনাক্তকারীর দুর্বলতাও তাই। কিন্তু আগে যেখানে কিছুই ধরা পড়ত না, এখন অন্তত কারণের একটা দাগ পড়ে থাকে, কেন নামালাম বা কেন রাখলাম।