নীল বাটি আর ওস্তাদের পরীক্ষা
ধুলোমাখা কর্মশালায় এক শিক্ষানবিশ তার ওস্তাদকে একটা নিখুঁত নীল বাটি দেখাল। ওস্তাদ বাটিটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখলেন, তারপর খুশি হয়ে মাথা নেড়ে তাকে পাস দিলেন। ছেলেটা ভাবল, সে জেতার মন্ত্র পেয়ে গেছে, তাই সে চাকার কাছে ফিরে গেল আরও বানাতে।
সে এবার একটা চালাকি করল। একই রকম নীল বাটি সে একশবার বানাল। ওস্তাদ যেহেতু একবারে একটাই দেখেন, তাই প্রতিবারই তিনি 'ঠিক আছে' বললেন। কিন্তু দিনশেষে দেখা গেল, ঘরভর্তি শুধু একই বাটি, কোনো বৈচিত্র্য নেই। যেন একটা একঘেয়ে কারখানা।
ওস্তাদ এই ফাঁকি ধরে নিয়ম পাল্টে দিলেন। তিনি বললেন, "এখন থেকে এক ডজন কাজ একসাথে দেখব।" পাশাপাশি রাখতেই সব নকল মনে হলো। বাধ্য হয়ে ছেলেটা এবার থালা, জগ আর মগ বানাতে শুরু করল যাতে ধরা না পড়ে।
কিন্তু নতুন কিছু করতে গিয়ে সে মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলছিল। তাই তাকে বলা হলো, হুবহু নকল না করে ওস্তাদের কাজের ওজন আর গড়নটা খেয়াল রাখতে। এতে তার হাত পাকা হলো, আর মাটির তাল নষ্ট হওয়া কমল।
এখন পরীক্ষা হয় দুটো প্রশ্নে। এক, জিনিসটা কি আলাদা করে চেনা যাচ্ছে? দুই, পুরো তাকে কি নানা রকমের জিনিস আছে? এই দ্বিমুখী নিয়মে নিশ্চিত করা হলো যে কাজটা সুন্দরও হবে, আবার বৈচিত্র্যময়ও হবে।
এখন আর সেই কর্মশালা একঘেয়ে কারখানা নয়। সেখানে এখন বাস্তবের মতোই নানা রঙের, নানা গড়নের জিনিসের মেলা। এভাবেই একঘেয়েমি কাটিয়ে সৃষ্টিশীলতা ফিরে এল।