ছেঁড়া ঠিকানা, তিন দরজা, আর ভাঁজের ধাঁধা
বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ডেলিভারি লোকটার লেবেলটা ছিঁড়ে গেছে, কালি লেগে অর্ধেক ঠিকানা মুছে। সামনে একই রকম তিনটা প্রবেশদ্বার। লোকটা আন্দাজে ঢোকে না, লেবেলের পড়া যায় এমন অক্ষর, হাতের স্কেচ, আর চোখের সামনে বাড়িটা একসাথে মেলায়।
আগে অনেক সময় এমন হতো, যেন লোকটা আগে লেবেলটা ধরে, পরে মানচিত্র দেখে, আর শেষে এসে দরজার সামনে মিলিয়ে দেখে। এই একটার পর একটা ধরলে শুরুতেই ভুল ধরে বসা সহজ, পরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আর বদলাতে মন চায় না।
এবার নতুন এক কৌশল এলো, যা তিনটা দিক একসাথে চালায়। একদিকে শিকলের মতো সাজানো সূত্র, একদিকে কোন অংশ কোনটার কাছে থাকতে পারে সেই জোড়া সূত্র, আর একদিকে বাতাসে দাঁড় করানো ভাঁজের খসড়া চেহারা। তিন দিকের কথা বারবার একে অন্যকে ঠিক করে, ভাঁজটা শক্ত হওয়ার আগেই।
ডেলিভারি লোকটার মিলও পরিষ্কার। লেবেলের অক্ষর মানে শিকলের সূত্র, স্কেচ মানে কার সাথে কার কাছাকাছি হবে সেই জোড়া সূত্র, আর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মিলিয়ে দেখা মানে বাতাসে ভাঁজটা ঠিক বসছে কি না দেখা। একই কৌশল, বারবার ফিরিয়ে ঠিক করা, একবারে সোজা পথে ঠেলে নেওয়া নয়।
আরেকটা বাধা ছিল, লম্বা শিকল একবারে ধরতে গেলে কম্পিউটারের জায়গা কম পড়ে যেতে পারে। তাই কৌশলটা ছোট ছোট টুকরো নিয়ে কাজ শেখে, যেন লেবেলের আলাদা আলাদা পড়া যায় এমন অংশ দেখে লোকটা বুঝে নেয় কোন টুকরো সাধারণত কোথায় মেলে। পরে অনেক টুকরোর ইঙ্গিত জুড়ে বড় চিত্র বানায়।
শেষ চেহারা বানাতে দুটো রাস্তা থাকে। এক পথে আগে অংশগুলোর দূরত্ব আর ঘোরার ভঙ্গি আন্দাজ হয়, তারপর আলাদা করে গুছিয়ে সূক্ষ্ম দিকগুলো বসে, সময় একটু বেশি লাগে। আরেক পথে একবারেই শিকলের মূল ভাঁজটা দাঁড়ায়। সোজা কথা, এক পথ হালকা কিন্তু শেষ ঘষামাজা চায়, আরেক পথ সরাসরি।
ফলটা দেখা যায় যখন জটিল মাপজোকের সাথে মিল খোঁজা লাগে, বা একসাথে একাধিক প্রোটিন কীভাবে লেগে থাকতে পারে তা আঁচ করতে হয়। আগের মতো নিখুঁত গঠন না পেলে থেমে যাওয়া কমে, কারণ ভরসাযোগ্য ভাঁজের খসড়া পরের দরজাটা বাছতে সাহায্য করে।