দশ হাজার আলোর খেলা
মাঝরাতে বিশাল স্টেডিয়ামটা এখন প্রায় অন্ধকার। একজন ডিরেক্টর হাজার হাজার বাতি নিয়ে একটা শো-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি শুরু করলেন মাত্র দুজন শিল্পীকে দিয়ে। যদি তারা নিজেদের মতো নাচে, তবে তারা স্বাধীন। কিন্তু যদি এমন হয় যে একজন হাত নাড়লে কোনো ইশারা ছাড়াই অন্যজনও ঠিক একইভাবে সাড়া দেয়, তবে তারা সত্যিই যুক্ত। এই 'অদৃশ্য বাঁধন'ই পুরো খেলার ভিত্তি।
ডিরেক্টর এবার দশজনকে গোল করে দাঁড় করালেন। তিনি দেখলেন, সংযোগের ধরনটা খুব জরুরি। একভাবে দাঁড়ালে, একজনের বাতি নিভলেই পুরো চেইনটা অন্ধকার হয়ে যায়। কিন্তু অন্য কায়দায় দাঁড়ালে, একজন ভুল করলেও বাকিরা আলোর রেশ ধরে রাখে। তার মানে, দল বড় হলে তারা একে অপরকে 'কীভাবে' ধরে আছে, সেটাই আসল কথা।
এবার পুরো মাঠ জুড়ে দশ হাজার মানুষ। ডিরেক্টর মহাবিপদে পড়লেন। এত মানুষের প্রত্যেকের দিকে আলাদা করে নজর রাখা অসম্ভব। কে কার সাথে ঠিকভাবে তাল মেলাচ্ছে, সেই বিশাল তালিকা তৈরি করতে গেলে শো শুরুই করা যাবে না। তথ্যের এই বিশাল চাপ সামলানো মানুষের সাধ্যের বাইরে।
তিনি একটা দারুণ শর্টকাট বের করলেন। প্রত্যেকের দিকে তাকানোর বদলে তিনি পুরো দলের তৈরি করা 'ছায়া'টা মাপলেন। দেয়ালের একটা নির্দিষ্ট দাগে যদি সেই ছায়া পড়ে, তিনি নিশ্চিত হতে পারেন যে সবাই এক হয়ে কাজ করছে। আলাদা করে হাজার হাজার মানুষকে চেক করার আর দরকার নেই।
কিন্তু সবাইকে নির্দেশ দেবেন কী করে? ডিরেক্টর পুরো মাঠের জন্য কঠিন কোনো ছক আঁকলেন না। তিনি সবাইকে শুধু একটা সহজ নিয়ম বলে দিলেন: "তোমার বাঁ-দিকের মানুষটা যেভাবে হাত রাখছে, তুমিও ঠিক তাই করো।" পুরো ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ না করে, শুধু পাশের জনের সাথে সম্পর্কটা ঠিক করলেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
স্টেডিয়ামের সব আলো নিভে গেল, শুরু হলো আসল প্রদর্শনী। সেই সহজ নিয়মের জাদুতে দশ হাজার আলোর বিন্দু যেন একটা বিশাল জীবন্ত শরীরের মতো নড়তে শুরু করল। ডিরেক্টর বুঝলেন, ঐক্যের জন্য সবাইকে আলাদা করে শাসন করার দরকার নেই; শুধু তাদের মাঝখানের সংযোগটা ঠিক রাখতে হয়।