একটা টোকা, আর স্টিকারটা নিজেই আলাদা হয়ে যায়
রাত হয়ে গেছে, স্টিকার কাটার মেশিনটা এখনও গুনগুন করছে। একজন খদ্দের ফোনের ছবি দেখালেন, সাইকেলটা আলাদা স্টিকার, রাস্তার সাইনটা আরেকটা, কোণার কুকুরটা আরেকটা। কর্মী সাইকেলের পাশে একবার টোকা দিতেই স্ক্রিনে কয়েকটা বর্ডার উঠল।
ছবি থেকে জিনিস আলাদা করা শুনতে সহজ, কিন্তু আসলে ঝামেলার কাজ। প্রতিটা ছোট রঙের দানা ধরে ধরে ঠিক করতে হয় কোনটা জিনিস, কোনটা পেছন। আগে সাধারণত কাজটা ধীর হত, আর নতুন ধরনের ছবিতে গেলে আবার নতুন করে আঁকতে হত।
নতুন ভাবনাটা হলো, একটাই কাটআউট টুল থাকবে, আর সেটা চালানো হবে ছোট্ট ইশারায়। ছবিটা দিন, তারপর একটা টোকা বা টেনে একটা বাক্স, বা হালকা আঁকাবাঁকা দাগ। ইশারা একটু অস্পষ্ট হলে টুল কয়েকটা সম্ভাব্য কাটআউট দেয়, যেন আপনি বেছে নিতে পারেন।
দোকানের কাজের মতোই গতি এখানে আসল। টুলটা আগে পুরো ছবিটা একবার দেখে নেয়, ভারী কাজটা একবারই করে। তারপর প্রতিটা নতুন টোকা বা বাক্সে খুব দ্রুত নতুন কাটআউট বের হয়। একটা ইশারায় একাধিক ফল দেয়, আর কোনটা বেশি ঠিক মনে হচ্ছে সেটা উপরে রাখে।
এরপর বড় কাজটা ছিল প্রচুর কাটআউট জোগাড় করা, কারণ এগুলো হাতে এঁকে বানাতে সময় লাগে। শুরুতে লোকজন টুল দিয়ে দ্রুত ট্রেস করত, তবু চোখে দেখে ঠিক করত। পরে টুল সহজ জিনিস নিজে করল, মানুষ কঠিনগুলো ধরল। শেষে টুল অনেকটা নিজে নিজেই চালিয়ে নিশ্চিত ফলগুলো রেখে বাকিগুলো বাদ দিল।
এখন একই টুলকে আলাদা আলাদা কাজে লাগানো যায়, শুধু ইশারা বদলালেই হয়। অনেক টোকা দিয়ে ছবির অনেক ধার বের করা যায়, বাইরের কোনো বাক্স থাকলে সেটাকে ধরে আলাদা করাও যায়, ভুল হলে একটা টোকায় ঠিক করা যায়। আগে যেখানে প্রতিটা নতুন কাজ মানে নতুন কাটার, এখন একই কাটারকে আঙুলের ইশারায় চালানো যায়।