নিকেলটা ঢুকল, চাকা আরও মসৃণ হলো কেন
ছোট সাইকেল দোকানে মেকানিক চাকা ঘুরিয়ে দেখে রিমটা ডানে-বাঁয়ে কাঁপছে। আগের মেরামত থেকে নানা রকম স্পোক লাগানো, একদম একরকম না। কেউ একটা নিকেলের স্পোক ধরিয়ে দেয়। মেকানিক একটু থামে, তারপর লাগিয়ে টান দেয়; টুং শব্দটা ভোঁতা থেকে ধারালো হয়।
এই চাকাই তুলনা। রিম আর স্পোকের জালটা ধাতুর ভেতরের খাঁচার মতো, আর প্রতিটা স্পোক একটা করে পরমাণুর মতো। নতুন স্পোক টানলে রিম সামান্য ভেতরে আসে, যেমন ছোট পরমাণু ঢুকলে ভেতরের ফাঁক কমে। কথা একটাই: ছোট একটা বদল পুরো জিনিসটা স্থির করতে পারে।
তারা টাইটানিয়াম, হাফনিয়াম, নাইওবিয়াম, ট্যানটালাম মিশিয়ে তাতে অল্প করে নিকেল দিল। দেখল নিকেল আলাদা দলা হয়ে বসে না, সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। ভেতরের ফাঁকও ধীরে ধীরে ছোট হয়, যেন স্পোকটা টান পড়িয়ে রিমটাকে চুপচাপ টেনে ধরছে।
তারপর নমুনা ঠান্ডা করে বিদ্যুৎ চলার পথে বাধা মাপল। একটা তাপমাত্রায় বাধা প্রায় শূন্যে নেমে যায়, চাকাটা কাঁপা থামিয়ে মসৃণ ঘোরার মতো। নিকেল নাকি বাধা দেওয়ার কথা, কিন্তু এখানে নিকেল বাড়লে ওই শূন্যে নামার তাপমাত্রা বরং একটু উঁচু হলো।
মসৃণ চাকা রাস্তায় ধাক্কা খায়। তারা চৌম্বক টান দিয়ে দেখল, কত চাপলে এই শূন্য-বাধার অবস্থা ভেঙে যায়। এই ধাতু অনেকটা চাপ সহ্য করে, ভেতর দিয়ে চৌম্বক টান ঢুকলেও ধরে রাখে, তারপর এক সীমায় গিয়ে ছাড়ে। নিকেল বাড়লে সেই সীমাও সাধারণত বাড়ে।
তাপের দিক থেকেও জিনিসটা জোরালো লাগল, যেন পুরো চাকায় টানটা একসাথে কাজ করছে। নিকেল বাড়লে স্পোক টানলে যেমন টুং শব্দটা একটু চড়া হয়, ভেতরের কাঁপুনিও তেমন বদলায়, আর বিদ্যুৎ বয়ে যাওয়া লোকজনও যেন বেশি জমে। দোকানে মেকানিক নিকেলের স্পোকটার দিকে তাকিয়ে বোঝে, যেটাকে ঝামেলা ভাবা হয়, সেটাই কখনও চাকাটা সোজা করে।