একটা স্বচ্ছ প্লাস্টিক শিট কীভাবে চোখের কাজ বাঁচাল
নীরব মিউজিয়ামের কাজঘরে সংরক্ষণকারী বিশাল ট্যাপেস্ট্রির সামনে দাঁড়ালেন। আঙুল দিয়ে খুঁটিয়ে না দেখে তিনি কাপড়ের ওপর স্বচ্ছ প্লাস্টিক শিট রাখলেন, শিটে অনেক আয়তক্ষেত্র। যেটা সন্দেহ লাগে টোকা দেন, তারপর কোণগুলো একটু ঠেলে সুতো আর ছায়ার সঙ্গে মিলিয়ে নেন।
আগে কাজটা ছিল দুই ধাপে। একজন সহকারী পুরো ট্যাপেস্ট্রি হাঁটে হাঁটে দাগ টেনে সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করত, তারপর আরেকজন দেখে বলত ওটা কী। সহকারী যদি ধীর হয়, দ্বিতীয় জন যতই ভালো হোক, তাকে বসে থাকতে হয়।
নতুন ভাবনাটা হলো, ওই সহকারীকে আলাদা না রেখে একই চোখের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া। প্লাস্টিক শিটের আয়তক্ষেত্রগুলো প্রতি জায়গায় আগে থেকেই ঠিক করা কয়েক রকম মাপ আর আকৃতির ছাঁচ, বারবার একইভাবে বসে। একটাই দেখা ছবির ওপর দাঁড়িয়ে এই ছাঁচগুলো বড়-ছোট জিনিস ধরার সুযোগ দেয়।
প্রতি থামার জায়গায় প্রতিটা ছাঁচে দুটো কাজ হয়। এক, টোকা দিয়ে দ্রুত বলা, এখানে কিছু আছে কি নেই। দুই, ছোট ছোট ঠেলা, যাতে বাক্সটা ঠিক সীমানায় বসে। শেখানোর সময় যেগুলো আসল দাগের সঙ্গে ভালো মেলে সেগুলোকে ভালো উদাহরণ ধরা হয়, যেগুলো মেলে না সেগুলোকে খারাপ, মাঝামাঝি গুলো বেশিরভাগ এড়িয়ে যাওয়া হয়।
তারপর বেছে নেওয়া অল্প কয়েকটা বাক্স নিয়ে ‘পরিদর্শক’ অংশ কাজ করে। ওটা ঠিক কী বস্তু, সেটা বলে, আর বাক্সটা আরেকটু টাইট করে। সময় বাঁচে কারণ টোকা দেওয়া আর চূড়ান্ত দেখা, দুটোই একই আলো আর একই বড় করে দেখার সুবিধা ভাগ করে নেয়, আলাদা করে নোট চালাচালি হয় না।
ফলে অযথা হাজারটা জায়গা ঘেঁটে সময় নষ্ট না করেও কাজ চলে। কম সংখ্যক ভালো বাক্স আগে থেকেই উঠে আসে, আর ঠেলা-টানায় সেগুলো ঠিকঠাক বসে। ট্যাপেস্ট্রির সামনে দাঁড়িয়ে সংরক্ষণকারীর মনে হলো, আগে তিনি দাগ খুঁজতেন পরে চিনতেন; এখন একই চোখে খোঁজা আর চেনা একসঙ্গে হাঁটে।