অচেনা বেহালাবাদক এল, তবু সুর ভাঙল না
কনসার্ট হল ভরে উঠছে। শেষ মুহূর্তে এক বদলি বেহালাবাদক খালি চেয়ারে বসে। কন্ডাক্টর পুরো দলকে আবার শোনার সময় পায় না, তাই আগে ওই বেহালার নিজের সুর শোনে, তারপর পাশে বসা কয়েকজনকে, আর তাতেই মিশিয়ে দেয়।
আগে ভরসার রাস্তা ছিল ধীর। প্রতিটা বাজিয়েকে আলাদা করে চিনতে লম্বা রিহার্সাল লাগত। নতুন কেউ এলে আবার বাড়তি রিহার্সাল। অনেক পুরোনো নেটওয়ার্ক-চিনতেও এমনই, পরিচিতদের জন্য আলাদা আলাদা নম্বর মুখস্থ, নতুন কেউ এলে কাজ থেমে যায়।
এখানে নতুন ভাবনাটা হলো মুখস্থ না করে একটা নিয়ম শেখা। মানে, কারও নিজের বৈশিষ্ট্য আর পাশের কয়েকজনের সারাংশ মিলিয়ে ছোট একটা পরিচয় বানানো। মিলটা এমন: বাজিয়ে মানে নোড, তার দেখা-যাওয়া গুণ মানে বৈশিষ্ট্য, পাশের চেয়ার মানে প্রতিবেশী, আর ছোট পরিচয়টাই কাজে লাগার মতো চিহ্ন। নতুন মুখ এলেও শুরু থেকে নয়।
নিয়মটা ধাপে ধাপে কাজ করে, গোল করে শোনা বাড়ে। আগে বদলি আর কাছের কয়েকজন। তারপর ওই কাছের লোকেরা যাদের কাছে বসেছে, তাদের দিক থেকেও একটু ইশারা আসে। সময় বাঁচাতে কন্ডাক্টর সবাইকে শোনে না, প্রতি ধাপে কয়েকজন বেছে শোনে, তাই বড় দল হলেও কাজটা হাতের মধ্যে থাকে।
পাশের সুরের সারাংশ তোলারও কয়েকটা ভঙ্গি আছে। কারওটা গড় করে মসৃণভাবে মেশানো, কারওটা একে একে শুনে ছাঁদ ধরার মতো, আরেকটা হলো যেখান থেকে সবচেয়ে জোরালো ইশারা আসে সেটা ধরে রাখা। শেষেরটা ছোট ছোট গোষ্ঠী ধরতে ভালো, যেখানে সবাই সবার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
নিয়মটা শেখে কীভাবে? কখনও কোনো নাম-ট্যাগ ছাড়াই, বারবার যারা একসঙ্গে বাজে তাদের পরিচয় কাছাকাছি টেনে, দূরেরদের আলাদা রেখে। আবার কখনও ট্যাগ থাকলে, যেমন কার ভূমিকা কী, সেটার দিকেও মিলিয়ে নেয়। এতে শুধু নিজের বৈশিষ্ট্য দেখে যে ধারণা হয়, তার চেয়ে ভালো মিল পাওয়া যায়, আর নতুন কেউ এলে পরিচয় বানানোও দ্রুত হয়।
হলে ফিরে কন্ডাক্টর বদলি বেহালাবাদককে আলাদা রিহার্সাল ছাড়া মানিয়ে ফেলে। নিজের সুর, আর পাশের কয়েকজনের নমুনা শোনা, এইটুকুই যথেষ্ট। আগে যেখানে নতুন লোক মানে থামা, এখন একই নিয়ম বারবার চলতে থাকে, দল বদলালেও সুর এগোয়।