বৃষ্টির দিনে বাসের মানচিত্রে যে পাড়া গায়েব
বৃষ্টিতে শহরের বাসটা হঠাৎ ব্রেক কষল। আমি ভেজা রুট-ম্যাপটা মেলে ধরলাম, কিছু রাস্তা গাঢ়, কিছু ফিকে, আর কয়েকটা পাড়া যেন নেইই। ভুল আন্দাজ করলে ভুল স্টপে নামতে হবে। মানুষের দেহের ভেতরের বংশগত নকশা মিলিয়েও এমনই ঝামেলা হয়, ঠিকঠাক মানচিত্র না থাকলে।
আগে যে সাধারণ মানচিত্রটা বেশি চলত, সেটা সবার জন্য সমান ভালো ছিল না। আর সেটা বেশি ধরত চোখে পড়া ছোট বদল, যেমন এক অক্ষর বদল। কিন্তু কোথাও ছোট টুকরো ঢোকে-বার হয়, কোথাও বড় অংশ কাটা, কপি, বা উল্টে যায়। মানচিত্রে এগুলো না থাকলে, সেতু আর ডাইভারশন বাদ পড়া রুট-ম্যাপের মতোই ভুল মোড় বাড়ে।
তারপর অনেক দেশের লোক মিলে নতুন, ভরাট মানচিত্র বানাল। নানা জায়গার মানুষের বংশগত নকশা দেখা হলো, আর এক রকম চোখে নয়। পুরো শহরটা একবার দ্রুত দেখে নেওয়া, ভিড়ের এলাকায় ধীরে হাঁটা, আর অফিসিয়াল সাইনবোর্ড ধরে মিলিয়ে নেওয়া, ঠিক বাস-ম্যাপ আঁকার মতো তিন দিক থেকে মিলিয়ে বসানো হলো।
নতুনত্ব ছিল জোড়া লাগানোর কায়দায়। আগে দূরের দূরের অংশ যেন ঠিক লাইনে থাকে, সেই মেরুদণ্ড বানানো হলো সাইনবোর্ড আর কাছের আত্মীয়ের সূত্র ধরে। তারপর সহজ বদলগুলো বসানো হলো। সবশেষে জটিল আর বড় বদলগুলো আলাদা করে বসানো হলো, যাতে লম্বা রুট-লাইন এলোমেলো না হয়।
আর তারা একটাই আঁকার যন্ত্রে ভরসা করেনি। অনেকভাবে পড়ে দেখা হলো, তারপর খুব পরিষ্কার মানের পড়া থেকে শেখা ছাঁকনি দিয়ে ঠিক করা হলো কোনটা রাখা হবে। কঠিন বড় বদলগুলোর কিছু আবার অন্য প্রমাণ দিয়ে মিলিয়ে দেখা হলো। ফলে তালিকা নয়, দুই দিকের বংশগত কপিতে সাজানো রুট-ম্যাপের মতো একটা মানচিত্র দাঁড়াল।
এই মানচিত্র দেখাল, বেশির ভাগ মানুষের ভেতরে ছোট ছোট বদল অনেক থাকে, আর বড় বদল কম হলেও অনেক বড় অংশে ছাপ ফেলে। আর একটা সোজা ছবি স্পষ্ট হলো: আফ্রিকার বংশধারায় মোট বদল প্রায়ই বেশি দেখা যায়। অনেক বিরল গলি একেক এলাকায় আলাদা, কিন্তু বড় রাস্তা অনেকেরই এক।
কারও নকশা পুরো পড়া না থাকলে, এই মানচিত্র ধরে ফাঁকা জায়গা ভরাট করা সহজ হয়, আর বেশি ধরনের মানুষের ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে ভালো চলে। চোখের এক সমস্যায় এমনও হলো, আগে যেটা ঠিকমতো ধরা যেত না, সেই বড় বদলটাই সামনে উঠে এল। ভেজা কাগজের ফাঁপা মানচিত্রের বদলে পূর্ণ রুট-ম্যাপ পেলে যেমন আন্দাজ নয়, পথটা নিজেই চোখে পড়ে।