অন্ধকার স্টোররুমে আঙুলের ছোঁয়ায় জিনিস চেনা
থিয়েটারের স্টোররুমে আলো নিভে গেছে। আমি একটা প্রপ ধরলাম, গায়ে ছোট ছোট উঁচু দানা। চোখে না দেখে আঙুল চালাই, যেদিক থেকে পারি। কিছু ছোঁয়া খুব জোরালো ইশারা দেয়, বাকিগুলো ফিকে। এইভাবে এলোমেলো ছোঁয়া থেকেও জিনিস চেনা যায়।
আগে অনেকেই এই দানাগুলোকে যেমন আছে তেমন নিতে চাইত না। দানাগুলো তো শুধু ছড়ানো ছড়ানো বিন্দু, সাজানো নয়। তাই অনেকে আগে গ্রিড কাগজে বসাত, বা কয়েক দিক থেকে ছবি আঁকত, তারপর আন্দাজ করত। এতে খুঁটিনাটি চাপা পড়ত, কাজও বাড়ত।
PointNet নামের একটা পথ উল্টোটা করল। প্রতিটা বিন্দুকে আলাদা করে একই ছোট চেক করে, যেন প্রতিটা দানায় একই আঙুলের পরীক্ষা। তারপর সব বিন্দুর মধ্যে থেকে প্রতিটা ইশারায় যে সিগন্যালটা সবচেয়ে জোরালো, সেটাই রাখে। বিন্দুর ক্রম বদলালেও ফল বদলায় না।
কিন্তু প্রপটা হাতে ঘুরে যেতে পারে, একটু কাতও হতে পারে। PointNet আগে সেটাকে সোজা করে নেওয়ার চেষ্টা করে, যেন আমি হাতে ঘুরিয়ে পরিচিত ভঙ্গিতে আনি। আর খেয়াল রাখে, এই ঘোরানোটা যেন ঘোরানোই থাকে, চেপে বসে বা টেনে লম্বা না করে।
সবচেয়ে জোরালো সিগন্যাল রাখার আরেকটা মজার ফল আছে। আসলে অল্প কিছু বিন্দুই জেতে, তারাই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে, ঠিক যেমন কয়েকটা ছোঁয়াই আমাকে নিশ্চিত করে। অনেক বিন্দু হারালেও অনেক সময় ধারণা একই থাকে, আর বাড়তি এলোমেলো বিন্দু জিততে না পারলে কিছু বদলায় না।
তারপর সেই পুরো জিনিসের সারাংশ দিয়ে দুই কাজ করা যায়। একদিকে নাম বাছা, যেমন আমি বলি এটা চেয়ার না মগ। আরেকদিকে অংশ চেনা, যেন আমি বলি এই দিকটা হাতল, ওই দিকটা পা। পুরোটা আর অংশের ইশারা একসাথে মেলায়, ঘরের স্ক্যানেও মেঝে-দেয়াল-আসবাব আলাদা করা যায়।
স্টোররুমের মেঝেতে বসে মনে হলো, আগে আমি দানাগুলোকে জোর করে সারি সারি সাজাতে চাইতাম। এখন বুঝি, দরকার নেই। এলোমেলো ছোঁয়ার মতোই ছড়ানো বিন্দুগুলোকে যেমন আছে তেমন নিলেই চলে, যদি কয়েকটা জোরালো ইশারা ঠিকমতো ধরা যায়।