মানচিত্র তৈরির জাদুকরী কৌশল
বিশাল এক মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু সমস্যা হলো, যারা ম্যাপ আঁকছে তাদের একই সাথে সীমানা দাগাতে হচ্ছে আবার ওই জায়গার আবহাওয়া বা অর্থনীতির হিসাবও লিখতে হচ্ছে। এই সব কাজ একসাথে করতে গিয়ে সবাই হিমশিম খাচ্ছে, আর কাজও এগোচ্ছে খুব ধীরে।
নতুন পরিচালক এসে দেখলেন এভাবে চলবে না। তিনি একটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিলেন। এখন থেকে 'কোথায় আছে' আর 'জিনিসটা কী', এই দুটো প্রশ্নের উত্তর একসাথে খোঁজা বন্ধ। কাজটা পুরোপুরি দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া হলো।
প্রথম দল হলো 'পথপ্রদর্শক'। এরা শুধু ওপর থেকে উড়ে গিয়ে নদী বা দালানের বাইরের রেখাগুলো এঁকে দেয়। এদের কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে, কোনোভাবেই বোঝার চেষ্টা করা যাবে না যে দালানটা আসলে কী। এদের কাজ শুধু নিখুঁত আকারটা আঁকা।
এরপর আসে 'বিশ্লেষক' দল। এরা নতুন করে কোনো দাগ টানে না। এরা শুধু আগের দলের আঁকা জায়গাগুলোর দিকে তাকায় আর তথ্য মিলিয়ে ঠিক করে কোনটা স্কুল আর কোনটা কারখানা। অর্থাৎ ম্যাপ না এঁকে এরা শুধু অর্থ খুঁজে বের করে।
পরিচালক দেখলেন, মাঝপথে কাজ থামিয়ে ভুল চেক করতে গেলে উল্টো দেরি হয়। তার চেয়ে বরং কাঁচা স্কেচগুলো সরাসরি বিশ্লেষকদের হাতে তুলে দিলেই কাজ দ্রুত এগোয়। কোনো বিরতি ছাড়াই তথ্যের আদান-প্রদান হতে থাকে।
এভাবে আকার আঁকা আর অর্থ বের করার কাজ আলাদা করতেই দেখা গেল বিশাল এলাকা নিখুঁতভাবে ম্যাপ করা যাচ্ছে। খরচ না বাড়িয়েই পৃথিবীকে আরও গভীরভাবে চেনার এই নতুন উপায়টা দারুণ কাজে দিল।