ঢাল বেয়ে নামা সাইকেল আর মাথার ভেতর চলা দুইটা নোট
ঢালু রাস্তায় সাইকেল নামাচ্ছি। হঠাৎ বাতাস ঠেলে দেয়, আবার নুড়ি পাথরে চাকা কাঁপে। এক হাত ব্রেকে, এক হাত হ্যান্ডেলে। আমার সাইকেলটা যেন কম্পিউটারের শেখা জিনিস, আর রাস্তার দুলুনি হলো ঠিক করার ধাক্কা।
আমি সহজ নিয়ম ধরলাম: সাইকেল সরে গেলেই একই জোরে ব্রেক চেপে হ্যান্ডেল ঘুরাব। মসৃণ জায়গায় ঠিক চলে। কিন্তু খসখসে জায়গায় ওই একই জোরে চেপে বসলে গতি মরে যায়, কখনও স্কিডও খায়। একটাই মাপ সব জায়গায় মানায় না।
তখন নতুন কায়দা নিলাম। মাথায় দুইটা চলতি নোট রাখি। এক নোট বলে, সাম্প্রতিক সময়ে বাতাস সাধারণত কোন দিকে ঠেলছে। আরেক নোট বলে, সাম্প্রতিক সময়ে ধাক্কাধাক্কি মোটের উপর কতটা রুক্ষ। সাইকেলের আলাদা আলাদা টানার জায়গার জন্যও আলাদা করে বুঝে নিই।
এবার কাজটা বদলাল। যে দিকে ঠেলা বেশি দেখা যাচ্ছে, হ্যান্ডেলটা সেই দিক ধরেই ঠিক করি, কিন্তু রাস্তা যত রুক্ষ লাগে তত ছোট করে করি। মানে, দিকের নোটটা হলো গড় ঠেলা, রুক্ষতার নোটটা হলো ঠেলার জোরের হিসাব; রুক্ষতা বেশি হলে আমি কম ভরসা করি। তাই হঠাৎ ঝাঁকুনিতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া হয় না।
শুরুর দিকে দুই নোটই ফাঁকা থাকে, কারণ কিছুই দেখা হয়নি। তাই প্রথম দিকের হিসাবটা কম দেখায়, ভুল জোরে টান পড়তে পারে। আমি নিজেকে মনে করাই, এখনও তো একটু দেখলাম মাত্র। এই মনে করাটাই নোটগুলোকে গরম হতে দেয়, শুরুটা বেসামাল হয় না।
ঢালের শেষে রাস্তা সোজা আর মসৃণ হতে থাকে। বাতাসও কম দুলায়, ধাক্কাও ছোট। আমি বড় করে হ্যান্ডেল ঘোরানো ছেড়ে দিই, শুধু স্থির রাখি। কখনও আবার আমি সবচেয়ে বড় ঝাঁকুনিটা মনে রেখে চলি, যাতে কোনো টান একদম বেশি বড় না হয়ে যায়।
নিচে নেমে দেখি, একটাই ব্রেকচাপ দিয়ে সব সামলানোর চেষ্টা আর করছি না। দুইটা নোট আর শুরুর সাবধানতা মিলিয়ে গতি থাকে, ভারসাম্যও থাকে। কম্পিউটারের শেখার কাজেও এইভাবে দিক আর রুক্ষতা দেখে প্রতিটা অংশ নিজের মতো গতি পায়, আর শুরুতেই উল্টোপাল্টা হয় না।