একটা পুরোনো সাইকেল আর প্রোটিনের লুকোনো কাঁপুনি
পাড়ার ওয়ার্কশপে একটা পুরোনো সাইকেল ঠিক করছে রুমা। সমতলে চলে ঠিকই, কিন্তু একটু খানাখন্দে পড়লেই গোটা সাইকেলটা কাঁপতে থাকে। সামনের চাকা ঠিক, পেছনেরটাও ঠিক। তাহলে কাঁপুনি কেন? রুমা বুঝল, চাকা দুটো আলাদা আলাদা ঠিক করা হয়েছিল, কিন্তু চালকের ভর সামনে-পেছনে কীভাবে সরে সেটা কেউ ধরেনি।
প্রোটিন নিয়ে কাজ করতে গেলে ঠিক এই সমস্যাটাই হয়। প্রোটিন হলো কোষের ভেতরের ক্ষুদ্র যন্ত্র। ওষুধ বা শিল্পে কাজে লাগাতে গেলে এদের একটু বদলাতে হয়, আর জানতে হয় বদলের পর ওটা টিকবে কি না। এখনকার টুলগুলো শুধু ভাঁজ-করা রূপটা দেখে, ঠিক যেন শুধু সামনের চাকা ঠিক করা। আলগা, খোলা অবস্থাটা পুরো উপেক্ষা করে।
রুমা পুরো পেছনের চাকা খুলে নতুন করে বানায়নি। বরং ফ্রেমে পেছনের অ্যাক্সেলের কাছে একটা ছোট্ট ভারসাম্যের ওজন লাগিয়ে দিল। প্রোটিনের ক্ষেত্রেও একই কাজ হলো। পুরোনো টুল ভাঙা হয়নি, তার ওপর একটা ছোট্ট সংশোধনী বসানো হয়েছে। সেটা দেখে যে বদলে-আসা টুকরোটা পানির সাথে কতটা মেশে বা এড়িয়ে চলে।
এই ভারসাম্যের ওজনের দুটো রূপ আছে। একটায় বিশ ধরনের টুকরোর জন্য আলাদা আলাদা মান বসানো, যেন প্রতিটা স্পোক ধরে ধরে টিউন করা। আরেকটায় মাত্র দুটো সংখ্যা দিয়ে কাজ চলে, একটা সহজ নিয়মের মতো। অবাক করা ব্যাপার, দুই-সংখ্যার সরল রূপটা প্রায় ততটাই ভালো কাজ করে।
অনেকগুলো টুলে এই সংশোধনী পরীক্ষা করা হলো। যেগুলো আগে আলগা অবস্থাটা ধরত না, সেগুলোর নির্ভুলতা স্পষ্টভাবে বাড়ল। কিন্তু যেগুলো আগে থেকেই সেটা হিসাবে রাখত, তাদের কোনো লাভ হলো না, বরং একটু খারাপই হলো। ঠিক যেন ইতিমধ্যে ব্যালান্স করা চাকায় আবার ওজন বসানো।
ব্যাপারটা শুধু সংখ্যার কারসাজি না। বিশটা টুকরোর জন্য যে মানগুলো বেরিয়ে এলো, সেগুলো পানির সাথে মেশার পরিচিত মাপের সাথে মিলে যায়। সংশোধনীটা একটা আসল শক্তি ধরছে, পানি-প্রিয় টুকরো ভাঁজের ভেতরে ঢুকলে বা বেরিয়ে এলে যে শক্তি খরচ হয়। সাইকেলের ওজনটাও সাজসজ্জা না, আসল যান্ত্রিক ভারসাম্য।
এই ছোট্ট সংশোধনী লাগানোর পর সবচেয়ে সাধারণ, দ্রুত টুলগুলো এখন সবচেয়ে জটিল, ভারী টুলগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। রুমার সাইকেলে একটা ছোট ওজন বসিয়ে নতুন সাইকেলের মতো মসৃণ রাইড পাওয়া গেল। বড় কথা, এটা যেকোনো পুরোনো টুলে এখনই বসানো যায়, নতুন করে কিছু বানাতে হয় না।