ফোমের বাক্সে একটা টান, আর শুরুর বাঁধনের অদৃশ্য নিয়ম
জলের ধারের অন্ধকার গুদামে একজন কর্মী ফোম বসানো বাক্সে একটা নরম-স্বরে বাজে এমন যন্ত্র ঢোকাল। ভেতরে আগে থেকেই একটা ফিতা সেলাই করা, ফিতার মাথা পাশের দেয়ালে আটকানো ছোট স্যাঁতসেঁতে-ধরা প্যাকেটে। ঢাকনা নামাতেই হাতটা টান খেল। সব ভঙ্গিতে আর রাখা যায় না।
এই বাক্সটাই ছবিটা। যন্ত্রটা হলো যেটাকে আমরা আলাদা করে দেখতে চাই, প্যাকেটটা চারপাশের পরিবেশ, আর আগেই সেলাই করা ফিতাটা তাদের শুরুর বাঁধন। শুরুটা শুধু “পরিষ্কার” যন্ত্র নয়, সঙ্গে ওই বাঁধনের ছাপও থাকে। তাই ঢাকনা বন্ধ হয় এমন ভঙ্গিগুলোই আসল শুরু।
ফিতা না থাকলে নিয়মটা সহজ। যে কোনো নিরাপদ ভঙ্গিতে রেখে পাঠালেও শেষে যন্ত্রটা আবার ঠিকঠাক ধরতে পারা যায়। কিন্তু ফিতা থাকলে ফলটা হয় পুরোনো নিয়মের ওপর একটা বাড়তি ঠেলা। মানে, শুরুর বাঁধন থাকলে যাত্রাপথের বদলানোর নিয়মের ভেতরেই একটা স্থায়ী সরণ ঢুকে যায়।
নতুন কৌশলটা হলো এই “বাড়তি ঠেলা”কে এমনভাবে লেখা, যাতে হিসাবটা একদম সোজা রেখায় চলে, এমনকি কাগজে আঁকা যেকোনো কল্পনার ট্যাগের জন্যও। বাক্সের ভাষায়, সত্যি যন্ত্র নয় এমন ট্যাগ ধরলেও নিয়ম চলবে, শুধু ট্যাগে যতটা “মোট জিনিস” ধরা আছে তার সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধন যোগ হবে। শিক্ষা, একটাই ফিতা মানে একটাই ঠিকঠাক সংশোধন।
কিন্তু সাবধানতা আছে। ঢাকনা বন্ধ হয় এমন ভঙ্গিতে এই বড় করা নিয়মটা ঠিকই কাজ করে। কিন্তু অসম্ভব ভঙ্গি ঢোকালে নিয়ম এমন ফল দিতে পারে, যেটা কোনো বাস্তব বাক্সে রাখা যাবে না। মানে, কাগজে যা লেখা যায় সবকিছুকে বাস্তব জিনিস বানিয়ে দিতে এই নিয়মের দায় নেই।
আরও একটা জিনিস তারা দেখায়, মুহূর্তে-মুহূর্তে কীভাবে বদলাচ্ছে তার হিসাবও লেখা যায়, যদি সেই মুহূর্তে পুরোনো “পরিষ্কার” নিয়মটা উল্টো দিকেও চালানো যায়। বাক্সের মতো, চাইলে এক মিনিট পিছনে গিয়ে বোঝা। ফিতা মসৃণ ঘোরার অংশটা বদলায় না, বদলায় ঘষা, ঢিলে হওয়া, লিকের মতো অগোছালো দিকটা।
একটা সহজ উদাহরণে ব্যাপারটা হাতের মুঠোয় আসে। ফিতা না থাকলে যন্ত্রকে বাক্সের ভেতর প্রায় যে কোনো ভঙ্গিতে কল্পনা করা যায়। ফিতা শক্ত হলে অনুমোদিত ভঙ্গির জায়গাটা ছোট হতে হতে প্রায় এক কোণায় আটকে যায়। তখনও মুহূর্তে-মুহূর্তে সোজা নিয়ম থাকে, শুধু মনে রাখতে হয়, শুরুতে ফিতাই ঠিক করে দিয়েছিল কোন ভঙ্গিতে ঢাকনা কখনও বন্ধ হতে পারত।