মঞ্চের টেপ আর ক্যামেরার চোখ: একই তাড়া
থিয়েটারের ফাঁকা হলে ড্রেস রিহার্সালের ঠিক আগে আমি মেঝের ঘরের দাগ দেখি। অভিনেতারা চলতে থাকে, আর এক কর্মী টুপ করে বলে দেয়, কোন জিনিসটা কোথায় আছে। শুধু দেখা না, চলতে চলতেই তার চারপাশটা ঠিকমতো ঘিরে নামও বলতে হয়।
দুটো ঝামেলা বারবার হয়। সাবধানে বলতে গেলে গতি কমে, সংকেত মিস হয়। তাড়াহুড়ো করলে ভুল জিনিসে আঙুল পড়ে, ছোট জিনিসে বেশি, আর ঘেরাটাও সরে যায়। অনেক ক্যামেরার চোখেও এমন ছিল, দ্রুত না নিখুঁত, আর চেনা জিনিসের তালিকাও ছোট।
এবার নতুন কাজের নিয়ম আসে। সবাই একই সহজ রুটিনে চলে, যাতে কেউ তাল হারায় না। আগে পুরো মঞ্চ মাপে প্র্যাকটিস, পরে দ্রুত দৌড়। একটাই ঘেরার আন্দাজ না রেখে কয়েকটা টেপ-ঘেরা ছাঁচ রাখা হয়। পুরোনো প্রপ দেখে যে ছাঁচগুলো বেশি মেলে, সেগুলোকেই রাখা হয়।
ডাকে আরেকটা কড়াকড়ি। প্রতিটা মেঝের ঘর নিজের ভেতরেই বসাতে দেয়, তাই ডাকা জিনিসটা হঠাৎ দূরে লাফ দেয় না। ছোট প্রপ হারালে সামনে কাছ থেকে দেখার একজন সাহায্য করে, সে খুঁটিনাটি বলে দেয়। টেপের ছাঁচ মানে অনেক ঘেরার চেষ্টা, ঘরের নিয়ম মানে জায়গা যুক্তিসংগত রাখা। শিক্ষা হলো, ছোট ছোট ঠিকঠাক বদলেই গতি না কমিয়ে ভুল কমে।
তারপর ক্যাটালগটা ফুলে ওঠে, শত শত থেকে হাজার হাজার নাম। সব ছবিতে ঠিকঠাক মেঝের দাগ নেই, তাও চলে। ক্যাটালগটা গাছের মতো সাজানো, আগে বড় নাম, পরে নির্দিষ্ট নাম। ঠিক ব্র্যান্ড না বুঝলেও “লণ্ঠন” বলা যায়, ভুল করে অন্য কিছু বলার চেয়ে ভালো।
রিহার্সালে দুই রকম জিনিস মেশে। কিছু দৃশ্যে প্রপের ঠিক দাগ আছে, সেখানে নিখুঁত বসানো শেখে। কিছুতে শুধু ছবি আর নাম, দাগ নেই; তখন যে জিনিসটা চোখে পড়ে, সেখানেই নামটা জুড়ে দেয়, যতটুকু নিশ্চিত ততটুকুই বলে। দর্শক আসার সময় আমি শুধু মঞ্চটা বড় করে দেখি বা কাছে টানি, একই দল দ্রুতও চলে, যত্নেও চলে।